ব্রেকিং:
লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে প্রবাসীর মৃত্যু! লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুরে করোনা রোগী ৩৭ জন : নতুন করে শিশুসহ আক্রান্ত ৩ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত করোনার তাণ্ডবে প্রাণ গেল ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের মারা যাওয়া তরুণের করোনা নেগেটিভ, তিন ভাই বোনের পজেটিভ লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিল এডভোকেট নয়ন লক্ষ্মীপুরে ত্রাণের সাথে ঘরও পেল লুজি মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যদের সাথে পুলিশ সুপারের ভিডিও কনফারেন্স লক্ষ্মীপুরে আরো ৩ জনের করোনা পজেটিভ আপনিকি করোনা পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিট ব্যবহারের বিপক্ষে? লক্ষ্মীপুরে ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিল ছাত্রলীগ লক্ষ্মীপুরে ২০০০ পরিবার পেল উপহার সামগ্রী কমলনগরে করোনা উপসর্গে একজনের মৃত্যু, এক বাড়ি লকডাউন ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিলো ছাত্রলীগ, কৃষকের মুখে হাসি ভবানীগঞ্জে কর্মহীন পরিবহণ শ্রমিকদের মাঝে সদর এমপি’র ত্রাণ বিতরণ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ছাড়ালো লক্ষ্মীপুরে লকডাউন অবস্থায় অসুস্থ যুবকের মৃত্যু : নমুনা সংগ্রহ
  • সোমবার   ১০ আগস্ট ২০২০ ||

  • শ্রাবণ ২৬ ১৪২৭

  • || ১৯ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৯৭

এক জাতি আজীবন কোয়ারেন্টাইনেই রয়ে গেছে!

আলোকিত লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ১ এপ্রিল ২০২০  

বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সবাই করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঠেকাতে হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইন মানে হচ্ছে নিজেকে গৃহবন্দী করে রাখা। যা শুরু হয়েছিল ১৯১৮ সাল থেকে। তখন মহামারি স্প্যানিশ ফ্লুর প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নেয়া হয়েছিল কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা।

এরপর থেকে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা মানা হয়েছে বিভিন্ন ভাইরাস থেকে বাঁচতে। তবে জানেন কি? এই কোয়ারেন্টাইনই ছিল একটি জাতির ভবিতব্য। সারা জীবন তাদের থাকতে হয়েছে নির্বাসিত গৃহবন্দী। 

নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন? আর ভাবতেই হয়তো আপনার দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে! কারণ মাত্র এই ক’দিন ঘরে থেকে যেখানে আমাদের এই অবস্থা, সেখানে কিনা সারা জীবন গৃহবন্দী থাকা!  হ্যাঁ, আপনার হয়তো এটুকুতেই বিরক্ত এসে গেছে। আর বাইরে বের হওয়ার জন্য মন অস্থির হয়ে আছে। সেখানে কীভাবে এক জাতি জীবন পার করেছে গৃহবন্দী থেকে? আর কেনইবা থাকতে হয়েছে তাদের কোয়ারেন্টাইনে? চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই কোয়ারেন্টাইন ট্র্যাজেডির করুণ ইতিহাস-    

 

এক কুষ্ঠ রোগী

এক কুষ্ঠ রোগী

সময়টা ছিল ১৯৪০ এর দশক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যন্ত এক এলাকায় দেখা দেয় কুষ্ঠরোগ। যেটি হ্যানসেন নামেও পরিচিত ছিল। কয়েকজন থেকে পুরো গ্রাম এবং আশেপাশে খুব দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে রোগটি। সংক্রমণ ঠেকাতে রোগীদের দূরের এক দ্বীপে পাঠানো হয় হোম কোয়ারেন্টাইনে। সেটি ছিল ম্যালোকাইয়ের হাওয়াইয়ান দ্বীপ। সেখানেই ১৮৬৬ সালে কুষ্ঠরোগীদের জন্য তৈরি করা হয় কালাউপ্পায় সার্কিট হাউজ। 

১৯২০ সালে এই দ্বীপটিকে জনসাধারণের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। শুধু কুষ্ঠরোগীদের সেখানে পাঠানো হতো কোয়ারেন্টাইনে। সেখানে থেকে অনেক রোগীই মারা গেছে। আবার অনেকে সুস্থও হয়েছে। তবে এদেরকে আর কখনো পরিবারে ফিরিয়ে আনা হয়নি। সেরে উঠলেও তারা সেখানেই রয়ে গিয়েছে। তাদের সঙ্গে পরিবারের দেখা হয়েছে দূরে নেটের দেয়ালের ওপার থেকেই। ২০০৮ সালে সেখানে জনসংখ্যা কমে ২৪ এ দাঁড়ায়। এরপর ২০১৫ সালের দিকে সেই গুটিকয়েক বাসিন্দাদের নাগরিক অধিকার দেয়া হয়। 

১৯৭১ সালে দ্বীপটির হাসপাতালের চিকিৎসক সিলভিয়া হ্যাভেন নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক  সাক্ষাতকারে বলেন, কোয়ারেন্টাইনে থাকা ব্যক্তিরা এখানে আসার পর একটি বাড়ি পায়। আর তা সারাজীবনের জন্যই। এখানে মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়েই রোগীরা আসে। তবে যারা সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যায়। তাদের জন্য রয়েছে বন্দী এক জীবন। এখান থেকে কেউই কখনো বাইরে যেতে পারেনা। যখন রোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চাইতো তখন তাদের আলাদা একটি কোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হত। নেটের দেয়ালের ওপার থেকে তাদের দেখা হতো প্রিয়জনের সঙ্গে। 

 

এভাবেই তারা বসবাস করত

এভাবেই তারা বসবাস করত

এ দ্বীপের বাসিন্দা অলিভিয়া রোবেলো ব্রেথা ১৯৮৮ সালে তার আত্মজীবনীতে লিখেছিলেন, এটি যেন কুকুরের মতো এক বন্দী জীবন। আমিও এ দ্বীপের জন্য একটি সংখ্যা ছিলাম মাত্র। এই উপদ্বীপটি পরবর্তীকালে কালাউপ্পা নামেই পরিচিতি পায়। এ দ্বীপে প্রায় ১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রায় আট হাজার রোগীর দীর্ঘস্থায়ী বসবাস। তবে এর পাশের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে অবস্থিত বুজার্ড উপসাগরের ক্ষুদ্র পেনিকেস দ্বীপ এবং লুইসিয়ানার কারভিল ন্যাশনাল লেপ্রোসারিয়ামেও অনেক কুষ্ঠরোগী ছিল। তবে কালাউপ্পাতেই বেশি রোগী বসবাস করত। লুইসিয়ানার কারভিলে মাত্র ৩৫০ জন কুষ্ঠরোগীর জন্য একটি ফেডারেল সংস্থা ছিল। 

১৮৭৩ সালে নরওয়েজিয়ান চিকিৎসক এই রোগের ব্যাকটেরিয়া আবিষ্কার করেন। তার নাম ছিল গেরহার্ড আরমায়ার হ্যানসেন। আর তার নামানুসারেই এর নামকরণ করা হয় হ্যানসেন। এরপর থেকেই এ রোগ সারা বিশ্বে মানুষকে সংক্রামিত করে চলেছে। ২০১৫ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক গবেষণায় পাওয়া যায়, এই ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বক এবং স্নায়ু। এটি রোগীর শরীর অসাঢ় করে দেয়। শরীরের বিভিন্ন অংশ গ্যাংগ্রিনে পরিণত হয়। ফলে অনেক সময় তা কেটেও ফেলতে হয়। এ রোগের কোনো নিরাময় নেই বলে অনেক আগে থেকেই ধারণা করা হয়েছিল। এটি সংক্রমিত ব্যক্তির লালা, বীর্য এমনকি সংস্পর্শে আসলেও ছড়াতে পারে।   

এজন্য কুষ্ঠ আক্রান্ত রোগীদের নির্বাসিত করা হয়েছিল। তারা পরিবার সমাজ থেকে অনেক দূরে প্রায় নিঃসঙ্গ জীবন কাটাতে থাকে। নির্বাসিত জীবনে বেশিরভাগ রোগীই মারা যায়। তবে বেঁচে যাওয়া মানুষগুলো নিঃসঙ্গতার মাঝে খুঁজে নেয় নতুন করে বাঁচার পথ। ১৯০০ এবং ১৯৩০ সালের মধ্যে এ দ্বীপের প্রায় এক হাজার দম্পতি বিবাহ করেছিল। এদের কারো কারো সন্তানও হয়। তবে সন্তানদের তারা নিজের কাছে রাখতে পারেনি। প্রশান্ত মহাসাগরের প্রান্তে প্রকৃতির মাঝে তারা খুঁজে নেয় অন্যরকম এক সুখী জীবন। এখানে কেউ সফটবল গেমস, কেউ গির্জার উপাসনা আবার কেউবা নৃত্যের মধ্যে জীবন উপভোগ করেন।  

 

কালাউপ্পা দ্বীপের বাড়িগুলো এমনই ছিল

কালাউপ্পা দ্বীপের বাড়িগুলো এমনই ছিল

তবে কারভিলে প্রথম দশকের সময়কালের পরিস্থিতি খুব খারাপ ছিল। ব্যাটন রুজের বাইরে জলাবদ্ধ ম্যালেরিয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দিয়েছিল। এতে করে সেখানকার বাসিন্দাদের জীবন হয়ে ওঠে আরো দুর্বিষহ। এছাড়াও শুরুতে সেখানে নারী পুরুষদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা ছিল না। এতে অবস্থা আরো খারাপের দিকে চলে যায়। এরপর আলাদা করা হয় নারী পুরুষের সার্কিট হাউজ। যারা পালানোর চেষ্টা করেছিল তাদের রাখা হত জেলে। দ্বীপে আসামিদের জন্য সার্কিট জেলও তৈরি করা হয়েছিল।   

অবশেষে কারভিলে সাইটে একটি হাসপাতাল তৈরি করা হয়। এতে করে কারাগারের মতো এ দ্বীপটি হয়ে ওঠে চিকিৎসা এবং গবেষণার প্রাণকেন্দ্র। ১৯৪০ সালে কিছু বিধি-নিষেধের পর স্বাচ্ছন্দ্যে শুরু হয় হাসপাতাল এবং গবেষণার কাজ। ১৯৪৬ সালে রোগীদের ভোট দেয়ার অনুমতি দেয়া হয়। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেখানকার নাগরিকদের বিবাহ, বাড়ি তৈরি, বাগান করার অনুমতি দেয়া হয়। এছাড়াও এদের দিয়ে পরিচালনা করা হয় একটি পত্রিকা। রোগীদের দ্বারা গড়ে ওঠে কারুকাজের ব্যবসায়। তাদের হাতের তৈরি জিনিস বিক্রি হয় বিশ্বের নানা প্রান্তে।  

তবে হ্যানসেনের রোগীদের কারাবন্দী করার বিষয়ে সরকারি স্বাস্থ্য নীতিটি পরিবর্তিত হয়েছে খুবই ধীরগতিতে। সব বিধি-নিষেধ বা আইন ভাঙতে না পারলেও কিছুটা মুক্ত হতে পেরেছে কালাউপ্পা দ্বীপের বাসিন্দারা। ১৯৬৯ সালে এখানকার বাসিন্দাদের কালাউপ্পার বাইরে আসার অনুমতি দেয়া হয়। তবে অনেকেই থেকে গেছেন জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটানো কালাউপ্পাতে। কেউবা স্থানটি ছাড়তে পারেননি প্রিয়জনের জন্য। কেউ বা দায়িত্বের খাতিরে। কেউ নিয়োজিত আছে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কেউবা গির্জার যাজক। আবার অনেকে কালাউপ্পা ছাড়তে পারেননি অভ্যস্ত জীবনের মায়ায়। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা কালাউপ্পাতেই কাটাতে চায়।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর
//