ব্রেকিং:
লক্ষ্মীপুরে শিশু হত্যার দায়ে মা আটক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অটোরিক্সা বন্ধে ট্রাফিক পুলিশের প্রচারণা মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ ওসি ইকবাল হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েও স্বপদে বহাল শরীর চর্চা শিক্ষক প্রশাসনের কাজে খুশি হয়ে শ্রমিকদের আনন্দ মিছিল সাদা ছড়ি ব্যবহার করি, নিশ্চিন্তে পথ চলি লক্ষ্মীপুরে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালিত ডেঙ্গু কেড়ে নিলো ব্যবসায়ীর প্রাণ ২০২৩ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পারে বাংলাদেশ! সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড আবরার হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু বানাতে চাচ্ছে বিএনপি: কাদের বিশ্বে ৭০ কোটি শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ইরান ও সৌদিকে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব ইমরান খানের নতুন প্রজন্মকে পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার আহ্বান ঢাকায় হচ্ছে আরো দুই মেট্রোরেল দুই মাসেও সন্ধান মেলেনি স্বজনদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার,আটক ৬ চর লরেঞ্জ ইউপি সদস্য নির্বাচনে ইসমাইল হোসেনের জয়

বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

৩৯৩

চরাঞ্চলের ৩৪ হাজার পরিবারে ফিরছে সুদিন

প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০১৯  

নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পিছিয়ে থাকা দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দরিদ্র ৩৪ হাজারেরও বেশি পরিবারের মুখে হাসি ফুটবে। উপকূলীয় চরাঞ্চলে সরকারের সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এসব পরিবারের পুষ্টি ও আয় বৃদ্ধি করা, উপকূলীয় নারীদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা ও লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে মুরগি, হাঁস ও ভেড়ার ক্ষুদ্র খামার স্থাপন করে ডিম ও মাংস উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে ওই অঞ্চলের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করা হবে। এতে একদিকে যেমন তাদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ হবে, অন্যদিকে নারী পুরুষের কর্মসংস্থানেরও সুযোগ হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, এ প্রকল্প সফল হলে সারা দেশে একই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।  
জানা যায়, উপকূলীয় চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি, মৎস্য ও পশুপাখি পালনের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকা এসব এলাকায় এখনও প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা কাক্সিক্ষত মাত্রায় উন্নত হয়নি। জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, এসব জনগোষ্ঠীর পুষ্টি ও আমিষের চাহিদা পূরণ এবং নারীদের স্বনির্ভর করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ‘সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প’ নামের তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। 
২০১৯ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯৫ কোটি ৩৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা। এ প্রকল্পের আওতায় আছে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের সাত জেলার ১৬টি উপজেলার মোট ৬৮টি ইউনিয়ন। এর সুফলভোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪০৮টি পরিবার। সুফলভোগীদের মাঝে রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলার মহেশখালী; নোয়াখালী জেলার কবিরহাট; ফেনী জেলার সোনাগাজী; লক্ষ্মীপুর জেলার লক্ষ্মীপুর সদর, কমল নগর ও রামগতি উপজেলা; বরিশাল বিভাগের বরগুনা জেলার বেতাগী, পাথরঘাটা, তালতলী, বরগুনা সদর; পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া, গলাচিপা, রাঙ্গাবালি এবং ভোলা জেলার চরফ্যাশন, দৌলতখান ও লালমোহন উপজেলা। 
সুবিধাভোগী ৩৪ হাজার ৪০৮টি পরিবারে মধ্যে ১৭ হাজার পরিবারকে ২০টি করে হাঁস, হাঁসের ঘর ও হাঁসের ৬৫ দিনের খাদ্য, ১০ হাজার ২০০ পরিবারকে ২০টি করে মুরগি, মুরগির ঘর ও মুরগির ৬৫ দিনের খাদ্য, ছয় হাজার ৮০০ পরিবারকে ৩টি করে ভেড়া, ভেড়ার ঘর ও ভেড়ার ৮০ দিনের খাদ্য এবং পাশাপাশি এক বছর পর্যন্ত চিকিৎসা, ভ্যাকসিন ও মেডিসিন বিনামূল্যে প্রদান করা হবে। ৬৮টি পরিবারকে কবুতর পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ, কবুতরের ঘর প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ৩৪০ জনকে উন্নতমানের নেপিয়ার ঘাস চাষের জন্য ৭ হাজার করে টাকা প্রদান করা হবে। এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলো থেকে সুফলভোগী বাছাই কার্যক্রম শেষ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫০০ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আরও দুই হাজার জনের প্রশিক্ষণ চলমান রয়েছে। প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা পরিবারগুলোকে আগামী নভেম্বর মাসে প্রকল্প সামগ্রী হস্তান্তর করা হবে। 
সুফলভোগীদের প্রদেয় উপকরণগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্পভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে মোট ৬৮ জন কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করবেন কৃষকদের মাঝে। প্রতি ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ২০টি গ্রুপে ৫০০ জন সুফলভোগী পরিবার প্রকল্পভুক্ত হবে। এর মাঝে ২৫০টি পরিবার ১৮টি স্ত্রী হাঁস, দুটি পুরুষ হাঁস, ১৫০টি পরিবার ১৮টি মুরগি, দুটি মোরগ, ১০০টি পরিবার দুইটি ভেড়ি, একটি ভেড়া, একটি পরিবারকে কবুতর পালনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও একটি কবুতরের ঘর এবং পাঁচজনকে উন্নতমানের ঘাস উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হবে। অন্যদিকে ভেড়া, মুরগি, হাঁস, কবুতর ও ঘাসের প্রদর্শনী স্বরূপ পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় সুফলভোগী নির্বাচনের ক্ষেত্রে হাঁস ও মুরগি পালনকারীদের মধ্যে শতভাগ এবং ভেড়া পালনকারীদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগ নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে। নারীর কর্মসংস্থান ও আয়ের উৎস সৃষ্টির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ হবে। প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ডা. নিতাই চন্দ্র দাস বলেন, উপকূলীয় চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৩৫ হাজার দরিদ্র পরিবারের উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি হবে। বৃদ্ধি পাবে প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন, সরবরাহ ও গ্রহণের পরিমাণ। নারীরা আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হবে। লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাস পাবে এবং নারীর উন্নয়ন ঘটবে। চরাঞ্চলে ক্ষুদ্র খামারিরা ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণে অনুপ্রাণিত হবে। অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সচেতনতা ও নৈপুণ্য বৃদ্ধি পাবে। প্রকল্পভুক্ত উপজেলা সদরে ঘাসের বাজার চালু হবে। তিনি বলেন, চরাঞ্চলের প্রাণিসম্পদ নিয়ে এ ধরনের প্রকল্প এ প্রথম গ্রহণ করা হলো। এটা পাইলট প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্যে ও লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়ন হলে হয়তো পরবর্তীতে সারা দেশে এ প্রকল্প গ্রহণ করবে সরকার।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
এই বিভাগের আরো খবর
//