ব্রেকিং:
যুক্তরাজ্যে গাঁজা দিয়ে তৈরি হচ্ছে ওষুধ সেন্টমার্টিনে আটকা পর্যটকদের আনতে তিন জাহাজ ৯৯৯ এ কল, পুলিশ-কোস্টগার্ডের অভিযানে ৩০ জীবন রক্ষা সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ গৃহবধূ ধর্ষণের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোয় আটক ১২ ভোলায় ট্রলার ডুবিতে এক জেলের প্রাণহানি, নিখোঁজ ১০ টাকার বান্ডিলের উপর ঘুমিয়ে থাকা সেই এসআই প্রত্যাহার টানা বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত লক্ষ্মীপুরসহ যেসব জেলায় ১১ ও ১২ নভেম্বর শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ দুর্যোগ-পরবর্তী করণীয় ‘বুলবুল’র তাণ্ডবে মরলো ৩৭৫ ভেড়া! তিন শাবকসহ বাঘের তৃষ্ণা মেটানোর ভিডিও ভাইরাল! দল করতে হলে নিয়ম মানতেই হবে: কাদের বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কোস্টগার্ড সোমবার থেকে সব ধরনের নৌযান চলবে মঙ্গলবারের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষাও স্থগিত ৩২ বুলবুলের দিনেই জন্ম নিলো ছোট্ট বুলবুলি ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় নেতাকর্মীদের কাজ করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর নিজেরাই তৈরি করে নাম দিলো ‘স্বপ্নের সেতু’ ৫ মাস পর মাকে পেল শিশু সুমাইয়া

মঙ্গলবার   ১২ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৭ ১৪২৬   ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৫৫০

জ্ঞান পিপাসুদের বাতিঘর লক্ষ্মীপুর গণগ্রন্থাগার

প্রকাশিত: ১২ অক্টোবর ২০১৯  

বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করতে চায় সকল শ্রেনী পেশার মানুষ। জানতে চায় ইতিহাস, ঐতিহ্য, শিক্ষা-স্বাস্থ্য থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি সেবা সংক্রান্ত নানা তথ্য। কিন্তু তাঁর জন্য প্রয়োজন নিরিবিলি পরিবেশ ও বিপুল সংখ্যাক বই সংবলিত কোন একটি স্থান। পাঠকদের সেই চাহিদা পূরণ করছে লক্ষ্মীপুর জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার। উপকূলীয় এ জেলার জ্ঞান পিপাসুদের বাতিঘর হিসাবে কাজ করছে এই গ্রন্থাগারটি।

গ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, ৬৫ শতাংশ জমির উপর নির্মিত জেলার একমাত্র গণগন্থাগারটি ১৯৯৪ সালের ১৮ জুন তৎকালিন সাংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী জাহানারা বেগম উদ্বোধন করেন। এক তলা বিশিষ্ট এই গ্রন্থাগারটির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুইটি অফিস কক্ষ, জ্ঞান পিপাসুদের জন্য রয়েছে ১ টি পাঠ কক্ষ ও পুরুষ-মহিলাদের আলাদা দু’টি শৌচাগার। এখানে দেশী বিদেশী লেখকদের মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, শিক্ষা-স্বাস্থ্য বিষয়কসহ সকল ধরনের ২৭ হাজারের অধিক বই রয়েছে। স্থানীয় দৈনিকসহ জাতীয় দৈনিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকাসমূহ আছে এখানে। প্রতিদিনই ১৫০ থেকে ২০০ জন পাঠক বিভিন্ন বই ও পত্রিকা পড়ে জ্ঞান অর্জন করে থাকেন গ্রন্থাগারের মাধ্যমে।

আরো জানা যায়, পাঠক শুধুমাত্র নাম লিপিবদ্ধ করেই পড়তে পারেন যে কোন ধরনের বই। এছাড়াও গ্রন্থাগারের সদস্য হয়ে বই অন্যত্র নিয়ে পড়তে পারেন। এজন্য ছাত্র-ছাত্রী’রা ৩০০ টাকা, শিশু’রা ২০০ টাকা ও অন্যরা ফেরত যোগ্য ৫০০ টাকা দিয়ে গ্রন্থাগারের সদস্য হতে হয়। বর্তমানে গ্রন্থাগারটিতে ৮টি পদের মধ্যে মাত্র চারজনের পদায়ন রয়েছে। তারমধ্যে লাইব্রেরিয়ান সোনিয়া চৌধুরী দায়িত্ব পালন করছেন ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে।

রিয়াদ হোসেন নামে এক পাঠক বলেন, বই মানুষকে অপরাধ ও হিংসা-বিদ্বেষ থেকে দূরে রাখে। বিনয়ী ও জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করে। দেখায় আলোর পথ। সেজন্যই গন্থাগারে গিয়ে নিয়মিত বই, পত্রিকা ও নিয়োগ গাইড পড়ছেন তিনি।

মাহি হোসেন নামে পঞ্চম শ্রেণীর এক ছাত্র বলেন, গ্রন্থাগারে ছোটদের অনেক মজার মজার গল্পের বই রয়েছে। যখনি সময় পায় ভাইয়ার সাথে বই পড়তে আসেন লাইব্রেরিতে। তবে ছোটদের জন্য আরো বই বৃদ্ধি করার কথাও বলেন সে।

সাদিয়া আক্তার নামে অন্য এক পাঠক জানান, প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখা করে আমরা মানুষ হব। কিন্তু জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি ও আলোকিত মানুষ হতে হলে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের বই পড়তে হবে। আর এই গ্রন্থাগারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খেলাধুলা, গল্প, কবিতা, উপন্যাস, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিকসহ সকল ধরনের বই রয়েছে। এজন্য নিয়মিত বই পড়ছেন এখানে। সাদিয়া মনে করেন মেয়েদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা থাকলে নারী পাঠক আরো বৃদ্ধি হতো।

অফিস সহায়ক ইসমাইল হোসেন বলেন, গ্রন্থাগারটিতে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা নেই। এজন্য পাঠকের সংখ্যাটাও কিছুটা কম। তবে পাঠকক্ষ বৃদ্ধি করলে সমস্যাটি সমাধান হবে বলে জানান তিনি।

গ্রন্থাগারের দায়িত্বে থাকা ইনচার্জ (লাইব্রেরি সহকারি) কাউছার শেক বলেন, দেশী-বিদেশী ছোট বড় অধিকাংশ লেখককের বই রয়েছে এখানে। নিয়মিত রাখা হচ্ছে স্থানীয় ১টিসহ ১১টি দৈনিক পত্রিকা। লাইব্রেরিতে বিভিন্ন নিয়োগ গাইড রয়েছে। যা গ্রন্থাগারের নিজস্ব অর্থায়নে ক্রয় করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গল্প, রচনা, আকৃত্তি, বই পড়া, চিত্রাংকনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পাঠকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। যার লক্ষ্য গ্রন্থাগারে পাঠক বৃদ্ধি করা। তবে পর্যাপ্ত বরাদ্ধ না থাকায় সে কাজটিও যথাযথভাবে করতে পারছেন না তারা। এছাড়া গ্রন্থাগারে বসার যায়গা খুব কম। ফলে অনেক পাঠক এসে ফিরে যায়। তাছাড়া গ্রন্থাগারে রয়েছে জনবল সংকট। সমস্যাগুলো সমাধান হলে পাঠক সংখ্যা পূর্বের চেয়ে বহুগুন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করেন এই কর্মকর্তা।

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) লক্ষ্মীপুর শাখার জ্যৈষ্ট সদস্য ও সাহিত্যিক গাজী গিয়াস উদ্দিন বলেন, বই হচ্ছে সভ্যতার প্রতীক। বই পড়ার মাধ্যমে যুগে যুগে মানুষ জ্ঞান অর্জন করেছেন। বর্তমান প্রযুক্তির যুগে মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন আধুনিক ডিভাইজের মাধ্যমে মানুষ সহজে বই পড়ে থাকেন। এজন্য ছাপানো বই পড়া পাঠকের সংখ্যা কিছুটা কমে গিয়েছে। তারপরেও নিরিবিলি পরিবেশে ছাপানো বই পড়ে জ্ঞান অর্জন করার আনন্দ অন্যরকম। তবে পাঠকের সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা-সেমিনার করা উচিত বলে মনে করেন এই সাহিত্যিক। এতে করে পাঠকগণ বই পড়তে উৎসাহিত হবেন।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
এই বিভাগের আরো খবর
//