ব্রেকিং:
লক্ষ্মীপুরে শিশু হত্যার দায়ে মা আটক জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ অটোরিক্সা বন্ধে ট্রাফিক পুলিশের প্রচারণা মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মধ্যে চাল বিতরণ ওসি ইকবাল হোসেনের বিদায় সংবর্ধনা স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েও স্বপদে বহাল শরীর চর্চা শিক্ষক প্রশাসনের কাজে খুশি হয়ে শ্রমিকদের আনন্দ মিছিল সাদা ছড়ি ব্যবহার করি, নিশ্চিন্তে পথ চলি লক্ষ্মীপুরে জাতীয় স্যানিটেশন মাস ও বিশ্ব হাত দোয়া দিবস পালিত ডেঙ্গু কেড়ে নিলো ব্যবসায়ীর প্রাণ ২০২৩ বিশ্বকাপের আয়োজক হতে পারে বাংলাদেশ! সম্রাটের ১০ দিনের রিমান্ড আবরার হত্যাকাণ্ডকে ইস্যু বানাতে চাচ্ছে বিএনপি: কাদের বিশ্বে ৭০ কোটি শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছে ইরান ও সৌদিকে সরাসরি আলোচনায় বসার প্রস্তাব ইমরান খানের নতুন প্রজন্মকে পরিচ্ছন্ন দেশ গড়ার আহ্বান ঢাকায় হচ্ছে আরো দুই মেট্রোরেল দুই মাসেও সন্ধান মেলেনি স্বজনদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকার,আটক ৬ চর লরেঞ্জ ইউপি সদস্য নির্বাচনে ইসমাইল হোসেনের জয়

বুধবার   ১৬ অক্টোবর ২০১৯   কার্তিক ১ ১৪২৬   ১৬ সফর ১৪৪১

৩৪৫

ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের সফলতা

প্রকাশিত: ৩ অক্টোবর ২০১৯  

গত কয়েক মাস ধরে ফিলিপাইনসহ তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবকে মহামারি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঘোষণা করা হলেও বাংলাদেশ সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপের ফলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে।

কয়েকমাস আগেও যেখানে ডেঙ্গু ছিলো আলোচনার একমাত্র ইস্যু, ডেঙ্গু নিয়ে সারাদেশের মানুষ যখন আতঙ্কিত, ঠিক তখনই সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়নের কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রতিদিনই কমছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ওষুধ ছিটানো এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মতো নানা কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার ফলে খুব দ্রুতই এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ৩৪৮ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকায় ভর্তি হয়েছেন ১০০ জন। আর ঢাকার বাইরে ২৪৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গত সোমবার পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চলে গেছেন ৮৬ হাজার ২৪১ জন, যা হাসপাতালে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগীর প্রায় ৯৮ শতাংশ।

বর্তমানে সারাদেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তিকৃত ডেঙ্গু রোগী আছেন এক হাজার ৪৮১ জন। আর এ যাবত ৮১ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুজনিত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিলে ২ জন, জুনে ৬ জন, জুলাইয়ে ৩২ জন, আগস্টে ৩৭ জন ও সেপ্টেম্বরে ৪ জন।

এই পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, চলতি বছর জুলাই এবং আগস্টে ডেঙ্গুর প্রোকপ বেশি হলেও সেপ্টেম্বরে সরকারের সফলতায় তা নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর তুলনায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ অনেক বেশি সফল। তিনি বলেন, সময়ের ব্যবধানে ঢাকা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এটা বিচিত্র কিছু নয়। ঢাকা শহরের ঘনত্ব অনেক বেশি হওয়ায় আমরা ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোধে কাজ করেছি। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সারা বিশ্বে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি।

এলজিআরডি মন্ত্রী আরো বলেন, ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারী উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক বেশি সফল। আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব তাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই তুলনায় আমাদের সিটি কর্পোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, চিকিৎসকরা অনেক বেশি পরিশ্রম করেছেন এবং অনেক বেশি সফল হয়েছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার অন্যতম কারণ হলো এসব এলাকার মানুষ নগর কেন্দ্রীক হচ্ছেন। শহরের মারাত্মক ঘনবসতি পরিবেশকে যেমন নোংরা করছে, তেমনি পোকামাকড়ও সেখানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া অতি গরম ও স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে মা মশাগুলো ডিম পাড়ার পরিবেশ সৃষ্টি করেছে।

সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এশিয়ায় খুব দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু জ্বরের কারণ নির্ণয় করতে গিয়ে দেশের জলবায়ুকে উল্লেখ করেছে। সেই সঙ্গে এ ভাইরাস জনিত রোগটি মৌসুমি সমস্যা বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এশিয়া মহাদেশের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলোর বেশি গরম এবং স্যাঁতসেঁতে স্থানে এ রোগ বেশি দেখা যাচ্ছে। কলম্বিয়া, লাউস, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামসহ প্রভৃতি দেশগুলো একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।

ডেঙ্গুর পরিচয় দিতে গিয়ে সিএনএন- এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু হলো এডিস মশার দ্বারা সংক্রমিত একটি ভাইরাস, যা জিকা, চিকুনগুনিয়া এবং হলুদ জ্বর ছড়িয়ে দেয়ার জন্য দায়ি। এর কারণে মাথা ব্যাথা, পেশী ও গিড়ায় গিড়ায় ব্যথা, জ্বর এবং ফুসকুড়িসহ ফ্লুর মতো উপসর্গ সৃষ্টি করে। আর এই ভাইরাস সংক্রমিতদের মধ্যে কেবল ২৫ শতাংশ লক্ষণ দেখা যায়। এ জ্বরে আক্রান্ত রোগীর রক্তক্ষরণ থেকে শুরু করে পক্ষাঘাত, অঙ্গের অচলাবস্থা এবং মৃত্যুও হতে পারে।
 
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, এটি বিশ্বে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া মশাবাহিত ভাইরাস রোগ।  গত ৫০ বছরে ৩০ গুণ বেড়েছে। একসময় এটি মাত্র নয়টি দেশে দেখা যেতো।  বর্তমানে এই রোগটি ১০০ টিরও বেশি দেশে রয়েছে।  ফলে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ এই রোগের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
এই বিভাগের আরো খবর
//