ব্রেকিং:
দেশের খাদ্য-পুষ্টির চাহিদা পূরণে উদ্ভিদের গুরুত্ব অপরিসীম পাকিস্তান সফরে টাইগারদের দল ঘোষণা এক ফুলকপিতে ১০ মারাত্মক রোগ মুক্তি! বিশ্বের সবচেয়ে বড় কেক, দৈর্ঘ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটার! কেরানীর হাতে শিক্ষক-শিক্ষিকা লাঞ্ছিত প্রতাপগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন বিজ্ঞান ভবন খাল থেকে মাটি উত্তোলন, ৫টি গাড়ি জব্দ ব্রেকআপের আগে নিজেকে অবশ্যই চারটি প্রশ্ন করুন সিপিপির স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে সাংকেতিক যন্ত্রপাতি বিতরণ ‘বিএনপি ইভিএম নিয়ে বিষোদগার করছে’ ‘এক বছরে বিমানে লাভ ২৭৩ কোটি টাকা’ রেমিটেন্সে নতুন রেকর্ড, ১৫ দিনেই ১ বিলিয়ন দূর্গম চরেও ঠাঁই হচ্ছেনা ভূমিহীনদের ইতিহাসের এ দিনে (১৮ জানুয়ারি) দুই অধ্যক্ষকে বিএনসিসি’র গার্ড অব অনার পত্রিকা বিক্রেতার সহযোগীতায় এগিয়ে এলো আমাদের লক্ষ্মীপুর সাংবাদিক দম্পতিকে মারধরের ঘটনায় আল্টিমেটাম ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮ সদস্যের অনাস্থা গ্রামপুলিশদের মাঝে টর্চ লাইট ও কম্বল বিতরণ ফেরি সংকটে আটকা পাঁচ শতাধিক যানবাহন

রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৫ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

দাওয়াতে জোর নয়, থাকতে হবে ভালোবাসা

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২০  

মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহর পথে দাওয়াত বা আহ্বান করতেই নবী-রাসূলগণের পৃথিবীতে আগমন। মুমিনের জীবনের অন্যতম দায়িত্ব এই দাওয়াত।

কোরআনুল কারিমে এ দায়িত্বকে কখনো দাওয়াত, কখনো সৎকার্যে আদেশ ও অসৎকার্যে নিষেধ, কখনো প্রচার, কখনো নসিহত ও কখনো দ্বীন প্রতিষ্ঠা বলে অভিহিত করা হয়েছে।

নিজের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি নিজের আশেপাশে অবস্থানরত অন্যান্য মানুষদের মধ্যে আল্লাহর দ্বীনকে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা মুমিনের অন্যতম দায়িত্ব। 

এ জন্য মুমিনের জীবনের একটি বড় দায়িত্ব হলো –আল আমরু বিল মারুফ অয়ান নাহ্ইউ আনিল মুনকার– অর্থাৎ ন্যায় কাজের আদেশ ও অন্যায় থেকে নিষেধ করা। আদেশ ও নিষেধকে একত্রে আদ-দাওয়াতু ইলাল্লাহ বা আল্লাহর দিকে আহ্বান বলা হয়। 

এ ইবাদত পালনকারীকে দাঈ ইলাল্লাহ বা আল্লাহর দিকে আহ্বানকারী ও সংক্ষেপে দাঈ অর্থাৎ দাওয়াতকারী বা দাওয়াত-কর্মী বলা হয়।

যাকে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে তার প্রতি দাঈর অন্তরে মহব্বত তথা ভালোবাসা ও দরদ থাকতে হবে। দাওয়াহ একটি আর্ট বা শিল্প। দাওয়াতের ময়দানে ফুটে ওঠে একজন দাঈর শিল্প। এ জন্য প্রতিটি দাঈকে হতে হবে নরম, কোমল, নম্র, ভদ্র। পৃথিবীর নিকৃষ্ট তাগুত ফেরাউনের কাছে পাঠানোর সময় মুসা ও হারুন আলাইহিমাস সালামের প্রতি আল্লাহ আদেশ করেছিলেন, 

اذْهَبَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ - فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ

‘তোমরা উভয়ে ফেরাউনের কাছে যাও, সে খুব উদ্ধত হয়ে গেছে। এরপর তোমরা তাকে নম্র কথা বলো, হয়তো সে চিন্তা-ভাবনা করবে অথবা ভীত হবে।’ (সূরা: ত্বা-হা, ২০, আয়াত: ৪৩-৪৪)।

তাই কাউকে দাওয়াত প্রদানের সময় এ কথা স্মরণে রাখুন যে, আপনি যাকে দাওয়াত দিচ্ছেন সে ফেরাউনের চেয়ে নিকৃষ্ট বা খারাপ নয়, আর আপনি মুসা বা হারুন আলাইহিস সালামের মতো প্রাজ্ঞ নন। আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবীকে বলেছেন, 

فَبِمَا رَحْمَةٍ مِّنَ اللّهِ لِنتَ لَهُمْ وَلَوْ كُنتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لاَنفَضُّواْ مِنْ حَوْلِكَ

‘আল্লাহর রহমতেই আপনি তাদের জন্য কোমল হৃদয় হয়েছেন, পক্ষান্তরে আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হৃদয় হতেন তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেত।’ (সূরা: আলে ইমরান ৩, আয়াত: ১৫৯)।

لَقَدْ جَاءكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَؤُوفٌ رَّحِيمٌ

‘তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।’ (সূরা: তাওবা ৯, আয়াত: ১২৮)।

বর্তমানে আমরা দাওয়াত বলতে বুঝি জোর করে, লজ্জা দিয়ে কিংবা অপমান করে, ধরে মসজিদে নিয়ে যাওয়া অথবা ইয়া মোটা তাফসির-হাদিসের কোনো কিতাব ধরিয়ে দেয়া ইত্যাদি। অথচ এগুলো দাওয়াতের প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে না। বরং দাওয়াতের ক্ষেত্রে আমাদের পদক্ষেপ হওয়া উচিত; প্রথমে যাকে দাওয়াত দিতে চাচ্ছি তার সঙ্গে পরিচয়, পরিচয় থেকে ঘনিষ্ঠতা, নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়া, হাদিয়া দেয়া, সুখ-দুঃখে তার পাশে দাঁড়ানো, তাকে গুরুত্ব দেয়া, তার কথা মনযোগের সঙ্গে শোনা, তাকে যথাযথ মূল্যায়ন করা, কথার ক্ষেত্রে উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করা, বিতর্কে না যাওয়া, নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা… এভাবে ধীরে ধীরে তার হৃদয়-জমিনকে উর্বর করে তোলা, এক পর্যায়ে দ্বীনের মৌলিক বিষয়গুলো উপস্থাপন করা। আর এই পুরো সময়জুড়ে মুখের কথার চেয়ে বরং নিজের আমল ও আখলাকের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা। মাতব্বরির ঢংয়ে কথা না বলে কথা বলতে হবে বন্ধুভাবাপন্ন হয়ে। মনে রাখতে হবে, ‘আমি দাঈ, বিচারক নই।’

এক্ষেত্রে একটি হাদিস সবিশেষ উল্লেখযোগ্য— একবার কতিপয় ইহুদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে বলল, ‘আস-সামু আলাইকুম (আপনার মৃত্যু হোক)!’ আয়েশা (রা.) রাগান্বিত হয়ে বললেন, ‘তোমাদের মৃত্যু হোক। তোমাদের আল্লাহ অভিশপ্ত করুন এবং তোমাদের ওপর তার ক্রোধ অবতীর্ণ হোক।’ তখন রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আয়েশা! শান্ত হও। তুমি অবশ্যই সর্বদা বিনম্রতা ও বন্ধুভাবাপন্নতা অবলম্বন করবে। আল্লাহ সব বিষয়ে বিনম্রতা ও বন্ধুভাবাপন্নতা ভালোবাসেন। আর খবরদার! কখনোই তুমি উগ্রতা ও অভদ্রতার নিকটবর্তী হবে না।’ আয়েশা (রা.) বলেন, ‘তারা কী বলেছে আপনি কি তা শুনেননি?’ তিনি বলেন, ‘আমি কি বলেছি তা কি তুমি শোননি? আমি বলেছি, ওয়া আলাইকুম অর্থাৎ তোমাদেরও মৃত্যু হোক।’ (বুখারি, আসসাহিহ : ৬৯২৭; মুসলিম, আসসাহিহ : ২১৬৫)।

একজন দাঈ সর্বদা উলফত-মুহব্বতের চর্চা করবেন। মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা, অযথা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা দাঈর বৈশিষ্ট্য নয়। বরং বৃহত্তর স্বার্থের জন্য সর্বদা বিভেদ সৃষ্টিকারী ছোটখাটো বিষয়গুলো এড়িয়ে চলবেন। বুখারির কিতাবুল হজে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) মক্কার কাফিরদের নির্মিত কাবাকে ভেঙে দিয়ে ইব্রাহিম আলাইহিস সালামের ভিত্তির ওপর নতুন করে নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি তা এ জন্যই করেননি যে, সদ্য জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণকারী কুরাইশরা এটা মেনে নিত না, আবার কুফুরিতে ফিরে যেত! 

এ জন্যই দাঈকে তার পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। পরিবেশ-পরিস্থিতির আগ-পিছ চিন্তা না করে আবেগের বশে হুটহাট কোনো কাজ করে বসলে এর দ্বারা ইসলামি দাওয়াহ বাধাগ্রস্ত হওয়া ছাড়া তেমন কোনো ফায়দা হবে না।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
//