ব্রেকিং:
মুখোষধারীদের স্থান নেই লক্ষ্মীপুর কলেজ ছাত্রলীগে রামগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮ ইউপি সদস্যের অনাস্থা মায়ের কোলে ফিরেই সুখবর পেলেন ক্রিকেটার হাসান হলি গার্লস স্কুলের পিঠা উৎসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকের উপর হামলা কারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে,, সাংবাদিক দম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করছে বিএমএসএফ কমলনগরের ল্যান্স কর্পোরাল খোকনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নয় হিন্দি সিরিয়ালে আসক্তি কাটানোর দারুণ উপায় ইউক্রেনের প্লেন বিধ্বস্তের ঘটনায় নতুন তথ্য দিল রাশিয়া প্রধানমন্ত্রীর সহায়তা পেল ২৬ পরিবার চীনে প্রাণঘাতী নতুন ভাইরাস, শাহজালাল বিমানবন্দরে সতর্কতা পেছালো দুই সিটির নির্বাচন চোরাকারবারিদের ধরলেও তদন্তের ক্ষমতা নেই কাস্টমসের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ফের নামছে হাড় কাঁপানো শীত দেশের খাদ্য-পুষ্টির চাহিদা পূরণে উদ্ভিদের গুরুত্ব অপরিসীম পাকিস্তান সফরে টাইগারদের দল ঘোষণা এক ফুলকপিতে ১০ মারাত্মক রোগ মুক্তি! বিশ্বের সবচেয়ে বড় কেক, দৈর্ঘ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটার!

রোববার   ১৯ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৬ ১৪২৬   ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

৪২

দুর্গম চরেও ঠাঁই হচ্ছে না তাদের

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০২০  

লক্ষ্মীপুরে দুর্গম চরেও পরিবার-পরিজন নিয়ে ঠাঁই হচ্ছে না ভূমিহীনদের। আশ্রয়ের খোঁজে দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন ভিটামাটিহারা হাজারো মানুষ। ভাঙ্গা-গড়ার মধ্যেই জেগে ওঠা এসব চরাঞ্চলে ভূমিহীনদের আশ্রয় দেয়ার কথা থাকলেও পুনর্বাসনের নামে ভূমি চলে যাচ্ছে প্রভাবশালীদের দখলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের খাস জমি বছরের পর বছর অবৈধভাবে দখল করে প্রতি একর ভূমি ১০/১৫ হাজার টাকায় (লাগদি) ভূমিহীনদের কাছ থেকে আদায় করছেন রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনসহ অনেকেই। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার চরবংশীর কানিবগার চর এটি। এ চরে বসবাস করে প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। এদের মধ্যে ভূমিহীন খাদিজা বেগম। নদীভাঙার কারণে ৪০ বছরের জীবনে ঠিকানা পরিবর্তন করতে হয়েছে তিনবার।

 

হারিয়েছেন বাপ-দাদার ভিটামাটি। সন্তানদের নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু এ দীর্ঘ সংগ্রামে ভূমি অফিস থেকে পাননি এক টুকরো খাস জমি বন্দোবস্ত। তার অভিযোগ, রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের কাছ থেকে তিন একর জমি নিয়ে চাষাবাদ ও বসবাস করছেন। এর বিনিময়ে প্রতি একর জমির খাজনা বাবত বছরে তাকে দিতে হচ্ছে ১২/১৫ হাজার টাকা। অথচ এ সম্পত্তি মেঘনার জেগে উঠা চর। এ খাস সম্পত্তি দখল করে নেয় তিনি। প্রতি বছর খাজনা দিতে দেরি হলে উচ্ছেদের হুমকি দেয়া হয়। একই  অভিযোগ করেন ভূমিহীন আবুল কালাম, লোকমান ব্যাপারী, আজগর মাঝি, কাদের, মহরম আলী সর্দ্দার, হাসান ও বাচ্ছুসহ শতাধিক মানুষ। তাদের অভিযোগ, রায়পুর উপজেলা পরিষদের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেনের রয়েছে চরে একদল লাটিয়াল বাহিনী। আর এ বাহিনীর নেতৃত্বে রয়েছে মফিজ খাঁন, আবুল মাল ও  ফারুক ছৈয়াল। চরঘাসিয়া, চরকানিবগা ও চরকাচিয়ায় প্রায় ৫ হাজার একর খাস জমি বছরের পর বছর দখল করে নেয় আলতাফ হোসেন। বছরে প্রতি একর ভূমি ১২/১৫ হাজার টাকায় লাগদি দিয়ে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নিচ্ছে আলতাফ হোসেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ ও কথা বললে নেমে আসে নানা হয়রানি। গত বছরের ২৮শে ডিসেম্বর এসব চরে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসক আঞ্জন চন্দ্র পালসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক চরের বাসিন্দা ও ভূমিহীনদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। এসময় এসব অসহায় মানুষে মুখে উঠে এসেছে আলতাফ হোসেনের বিভিন্ন জবর দখলের চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ ১০/১৫ বছর কানিবগার চর, চরঘাসিয়া ও চরকাচিয়া এলাকার প্রায় ৫ হাজার একর সরকারি খাস জমি বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে দখল করে নেয় প্রভাবাশী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন ও জাকির হোসেন মোল্লা। অথচ এসব খাস জমি নিয়মানুযায়ী বন্দোবস্ত পাওয়ার কথা নদীভাঙ্গা ভূমিহীন পরিবারগুলোর। এসব খাস জমি ভূমিহীনদের মাঝে বন্টন করার দায়িত্ব স্থানীয় প্রশাসনের। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা জেগে উঠা চরাঞ্চলগুলো নিজেরা তা দখল করে নেয়। একই অবস্থায় চরমেঘা, চররমনী মোহন, চরআবদুল্লাহ, তেলিরচর ও বয়াচরসহ ১৫টি চরাঞ্চলের প্রায় ১০ হাজার একর খাস জমি অবৈধভাবে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। আর বছরে প্রতি একর জমি লাগিয়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে লাখ লাখ টাকা আদায় করে নিচ্ছে  তারা। এ দিকে স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আলী আহমদ জানান, খাস জমি প্রভাবশালীদের দখলে থাকার কথা স্বীকার করে বলছেন, সরকারের এসব সম্পত্তি উচ্ছেদ করতে গেলে প্রভাবাশালীরা বিভিন্ন অজুহাত  দেখিয়ে তা বন্ধ করে দেয়। তিনটি চরে প্রায় ২৭শ’ একর সরকারি খাস সম্পত্তি আলতাফ হোসেনসহ অন্যরা দখল করে নেয়।  নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষরা তাকে ফাঁসাতে এসব কথা রটাচ্ছেন। এসব সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলে। এতে আমার করার কিছু নেই। এদিকে জেলা প্রশাসন অঞ্জন চন্দ্র পাল বলছেন, ইতিমধ্যে চরগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। চরাঞ্চলে সরকারের  যে খাস সম্পত্তি প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। তার একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তালিকা শেষে দখলকৃত ভূমি উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করা হবে। যতবড় প্রভাবশালী ব্যক্তিই হোক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
এই বিভাগের আরো খবর
//