ব্রেকিং:
লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে প্রবাসীর মৃত্যু! লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুরে করোনা রোগী ৩৭ জন : নতুন করে শিশুসহ আক্রান্ত ৩ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত করোনার তাণ্ডবে প্রাণ গেল ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের মারা যাওয়া তরুণের করোনা নেগেটিভ, তিন ভাই বোনের পজেটিভ লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিল এডভোকেট নয়ন লক্ষ্মীপুরে ত্রাণের সাথে ঘরও পেল লুজি মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যদের সাথে পুলিশ সুপারের ভিডিও কনফারেন্স লক্ষ্মীপুরে আরো ৩ জনের করোনা পজেটিভ আপনিকি করোনা পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিট ব্যবহারের বিপক্ষে? লক্ষ্মীপুরে ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিল ছাত্রলীগ লক্ষ্মীপুরে ২০০০ পরিবার পেল উপহার সামগ্রী কমলনগরে করোনা উপসর্গে একজনের মৃত্যু, এক বাড়ি লকডাউন ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিলো ছাত্রলীগ, কৃষকের মুখে হাসি ভবানীগঞ্জে কর্মহীন পরিবহণ শ্রমিকদের মাঝে সদর এমপি’র ত্রাণ বিতরণ করোনায় মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ৯২ হাজার ছাড়ালো লক্ষ্মীপুরে লকডাউন অবস্থায় অসুস্থ যুবকের মৃত্যু : নমুনা সংগ্রহ
  • বৃহস্পতিবার   ০৪ জুন ২০২০ ||

  • জ্যৈষ্ঠ ২১ ১৪২৭

  • || ১১ শাওয়াল ১৪৪১

১৩৭

মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট

আলোকিত লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২০  

সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশে ও করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এ ভাইরাস নিয়ে কার্যকর কোনো প্রতিষেধক তৈরি হয়নি।  যেকোনও নতুন আবিষ্কারই আমাদের উৎসাহিত করে। বিশেষ করে সংকটকালে তা আরও আশাব্যঞ্জক। তবে আবিষ্কৃত উপাদানটি সঠিক কিনা বা মানুষের উপকারে আসবে না বিপদ বাড়াবে, সেজন্য সবসময় কিছু সাবধানতামূলক প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হয়।

গণস্বাস্থ্যের করোনাভাইরাস টেস্ট  কিটের কাজ এখন যে পর্যায়ে আছে সেখান থেকে দেশের আইন অনুযায়ী তাদের আরও কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হবে  এবং তা করতে হবে মানুষের কল্যাণের স্বার্থেই।

অপরীক্ষিত গণস্বাস্থ্যের তৈরি করোনা শনাক্তকরণ কিট মানুষের জন্য সম্পদ না হয়ে হতে পারে বিপদজনক! তাই সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন গবেষকরা। 

গবেষকরা বলছেন, এটি একটি একাডেমিক আলোচনা। অনেকে বলছেন, সরকার রাজনৈতিক কারণে গণস্বাস্থ্যের কিট নিয়ে মশকরা শুরু করেছে। আবার অনেকে প্রশ্ন তুলেছে, এই কিটের উদ্ভাবন রহস্য নিয়ে। আবেগের বানে ভাসছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

বিজ্ঞানে আবেগের কোনও স্থান নেই, নেই কোনও রাজনীতির মহারথিদের অবস্থান। বিজ্ঞান চায় শুধু প্রমাণ ও যৌক্তিক আলোচনা।

কিটের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু তা নির্ভর করবে এর সফলতার উপর। মাত্র ৫ টি নমুনা পরীক্ষা করে নিজে নিজে শতভাগ সফল দাবি করে হাজার হাজার মানুষের জীবনকে বিপদে ফেলা কখনোই কোন গবেষণার নৈতিকতার মধ্যে পড়ে না।

পাবলিক সেন্টিমেন্ট দিয়ে কখনো জীবন-মরণের সম্পর্ক জড়িত বিষয়ে সরকারের উপর চাপ তৈরি করা ঠিক নয়।

এরজন্য কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। যদিও এখন পর্যন্ত কোন ধাপই অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।

(১) প্রথম ধাপ: উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান (এক্ষেত্রে গণস্বাস্থ্য) আইন অনুযায়ী একটি থার্ড পার্টি Contract Research Organization বা CRO-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করবে। বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি-সহ মোট নয়টি এমন থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান (CRO) আছে।

(২) দ্বিতীয় ধাপ:  ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল আগে উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান, CRO-কে সঙ্গে নিয়ে প্রটোকল (Protocol) প্রস্তুত করে পাঠাতে হবে বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (BMRC)-এর ন্যাশনাল রিসার্চ এথিক্স কমিটিতে।

(৩) তৃতীয় ধাপ: ন্যাশনাল রিসার্চ এথিক্স কমিটির অনুমোদনের পর সেখান থেকে অনুমোদিত প্রটোকলটি যাবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের ন্যাশনাল ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অ্যাডভাইজরি কমিটিতে।

(৪) চতুর্থ ধাপ: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালস অ্যাডভাইজরি কমিটির অনুমোদনের পর, ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল করতে হবে, যা আইন অনুযায়ী হতে হবে একটি থার্ড পার্টি বা CRO-এর মাধ্যমে। বাংলাদেশে আইসিডিডিআরবি-সহ মোট নয়টি এমন থার্ড পার্টি প্রতিষ্ঠান (CRO) আছে, যা আগেই উল্লেখ করেছি। এই ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানেও কিন্তু অনুমোদন না।

(৫) পঞ্চম ধাপ: ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ সম্পন্ন হলেই কেবল চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরে।

(৬) ষষ্ঠ ধাপ: তারপর সফলতা সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন আসে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ড্রাগ কন্ট্রোল কমিটি থেকে।

অর্থাৎ, উল্লিখিত ধাপগুলো সম্পন্ন না করে সরকারের ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের কাছে কিট হস্তান্তরের কোনও সুযোগ নেই। উল্লিখিত ধাপগুলো সম্পন্ন করা প্রয়োজন জনকল্যাণের স্বার্থেই, না হলে মানুষের উপকার হওয়ার থেকে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কাই বেশি থাকবে।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী এসব কিছু না করে সরাসরি কিট গুলো নিয়ে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়েছেন জমা দিতে যা সরাসরি ব্যবহারেরও দাবি জানিয়েছেন। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বারবার বলছে র‌্যাপিড কিট এখনও মান যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়নি। এ ধরনের কিট ব্যবহার করলে ঝুঁকি বাড়তে পারে। 

জানা গেছে র‌্যাপিড কিটে ৩০ শতাংশ নেগেটিভ ও পজেটিভ ফলস আসে। সে কারণে কোনো দেশেই র‌্যাপিড কিট ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সব ফয়সালা হওয়ার পর গণস্বাস্থ্যের কটু মন্তব্য : ঔষধ প্রশাসন

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান বলেছেন, সব কিছু ফয়সালা হয়ে যাওয়ার পর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সংবাদ সম্মেলন করে অযাচিত ও কটু মন্তব্য করেছে। যদিও শুরু থেকেই অধিদপ্তর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে।

গণস্বাস্থ্য উদ্ভাবিত করোনা নির্ণায়ক জিআর কোভিড-১৯ ডট ব্লট র‌্যাপিড টেস্টিং কিট নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সোমবার ( ২৭ এপ্রিল ) স্বাস্থ্য মিডিয়া সেল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাহবুবুর রহমান অসহযোগিতার অভিযোগ অস্বীকার করেন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এখন পর্যন্ত ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরকে সহযোগিতা করার জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যে তিনটি চিঠি দিয়েছে, সেগুলোও উপস্থাপন করেন মাহবুবুর রহমান। এর মধ্যে সবশেষ চিঠিটি গত ২১ এপ্রিল পাঠানো। গতকাল তাঁদের বৈঠকটিও 'সৌহার্দ্যপূর্ণ' ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুমোদনের শর্ত হিসেবে একটি ফার্মের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। এর মাধ্যমে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের ঘুষ খাওয়ার সুযোগ আছে বলে গত রোববার সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জাফরুল্লাহ চৌধুরী। এই মন্তব্যকে অত্যন্ত আপত্তিকর (অবজেকশনেবল) বলে উল্লেখ করেন মাহবুবুর রহমান।

রোববার জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জাফরুল্লাহ চৌধুরী অভিযোগ করেন, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে গিয়েও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র কিট জমা দিতে পারেনি। অনুমোদনের শর্ত হিসেবে তাদের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে বলা হচ্ছে। অধিদপ্তরের উচিত ছিল কিটগুলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) পাঠিয়ে পরীক্ষা করে দেখা।

সোমবার পাল্টা সম্মেলনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, গতকাল বিকেল ৩টার দিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের তিনজন প্রতিনিধি এসেছিলেন। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা থেকে তাঁদের একজনকে বাইরে অবস্থান করতে বলা হয়।

অধিদপ্তর প্রতিনিধিদলকে অনুমোদন পাওয়ার স্তরগুলো জানায়। নিয়ম অনুযায়ী, একটি কন্ট্র্যাক্ট রিসার্চ ফার্মের (সিআরও) সঙ্গে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে চুক্তিবদ্ধ হয়ে প্রটোকল তৈরি করতে হয়। প্রটোকলে কিটটি কার্যকর কি না, সেটির ট্রায়াল কীভাবে হবে, কতজনের ওপর হবে, কত সময়ের মধ্যে হবে, সে বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকে। 

বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার (বিএমআরসি) থেকে উৎপাদন প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল কি না, সে সম্পর্কিত মূল্যায়ন হওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ট্রায়ালের কাগজপত্র ও বিএআরসির মূল্যায়নপত্র খতিয়ে দেখে বিপণন বা বাজারজাতকরণের অনুমতি দেবে।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, অধিদপ্তরের যে কমিটি অনুমোদন করে থাকে, সে কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র সিআরও হিসেবে কার সঙ্গে কাজ করতে পারে, জানতে চাইলে মহাপরিচালক আইসিডিআর,বি, আইইডিসিআর ও আইপিএইচ এর কথা বলেন। জোর দেন আইসিডিডিআর'বির ওপর।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, পরে প্রতিনিধিদল বলে, আইসিডিডিআর,বি লকডডাউন। যদিও আইসিডিডিআর,বির আংশিক লকডাউন এবং গবেষণাকাজ চলছে। পরে তাঁদের নয়টি প্রতিষ্ঠানের কথা বলা হয়। চিঠি চাইলে হাতে হাতে চিঠিও দেওয়া হয়। বেসরকারি সংস্থা এমিনেন্সের কথাও তিনি বলেছেন বলে উল্লেখ করেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, 'সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে মিটিং হবার পর বিকেল ৪টায় উনি (জাফরুল্লাহ চৌধুরী) জরুরি সংবাদ সম্মেলন করলেন।'

মহাপরিচালক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা র্যাপিড টেস্ট সুপারিশ করে না। তারপরও বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা করছেন বলে তাঁরা সহযোগিতা করেছেন। রিএজেন্ট আনার অনুমতি ১৮ মার্চ চান, ১৯ তারিখে অনুমতি দেওয়া হয়। অধিদপ্তর ২২ মার্চ অনুমোদন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে গবেষণাগার দেখতে চায়। গবেষণাগার দেখে এসে কিছু সংশোধনের পরামর্শ দেয়। ৬ এপ্রিল তাঁরা আবারও পরিদর্শনে যান এবং দেখেন সুপারিশ অনুসারে গবেষণাগারে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এনেছেন।

হস্তান্তর অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, তাঁরা অনুমোদনের পর অনুষ্ঠান করার অনুরোধ করেছিলেন।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, কিট ভালো কি মন্দ, তা নিয়ে পরীক্ষার আগে তিনি কোনো মন্তব্য করবেন না। তিনি জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে সম্মান করেন। আশা প্রকাশ করেন, তিনি বিজ্ঞানভিত্তিক ও সৌজন্যমূলক আচরণ করবেন।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
জাতীয় বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর
//