ব্রেকিং:
শতভাগ নরমাল ডেলিভারিতে চাঁদপুর মাতৃমঙ্গল রায়পুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ লক্ষ্মীপুর থেকে উপকূল দিবসের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দাবি লক্ষ্মীপুরের জমিদারবাড়ি ঘিরে অপার সম্ভাবনা আল্লাহ এমপি কন্যার মনোবাসনা পূর্ণ করুন লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে উপকূল দিবস পালিত রায়পুরে মুজিববর্ষ জাতীয় স্কুল কাবাডি শুরু রামগতিতে দূর্গতের মাঝে ত্রাণ বিতরণ ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চাউল ও টেউটিন বিতরণ জেলা গোয়েন্দা শাখার নতুন ভবন এর “শুভ উদ্ভোধন” এই খাবারগুলো কাঁচা খাওয়াই উত্তম! চীনে স্কুলে রাসায়নিক হামলা, শিশুসহ আহত অর্ধশতাধিক মহারাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী জাহাজের সুরক্ষায় বিল পাস ঘূর্ণিঝড় বুলবুলে কৃষিতে ক্ষতি ২৬৩ কোটি টাকা ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত সবার পরিচয় মিলেছে ট্রেন দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সতর্ক থাকার নির্দেশ লক্ষ্মীপুরে ১২ নভেম্বরকে উপকূল দিবসের দাবি দ্বীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে উন্মোচন হচ্ছে রামগঞ্জ-হাজিগঞ্জ সড়ক গ্রাহকের টাকা ফেরত দিতে পল্লী বিদ্যুৎকে দুদকের নির্দেশ

বুধবার   ১৩ নভেম্বর ২০১৯   কার্তিক ২৯ ১৪২৬   ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৯৪২

যার হাতে লাখো মানুষের ইসলাম গ্রহণ

প্রকাশিত: ১ আগস্ট ২০১৯  

পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের বাদিন জেলার মাতলি শহরের অধিবাসী ইসলাম ধর্ম প্রচারক দ্বীন মোহাম্মদ শেখ।  
১৯৮৯ সালে ইসলাম গ্রহণ করার পর তিনি ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন। তার হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন ১ লাখ ৮ হাজার মানুষ।

দ্বীন মোহাম্মদ শেখ ১৯৪২ সালে এক হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। ৪৭ বছর বয়সে তিনি তার চাচার সঙ্গে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। মুসলমান হওয়ার পর থেকেই তিনি ধর্ম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

তিনি পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশে হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ইসলামের দাওয়াত দিতে থাকেন। বিভিন্ন তথ্য থেকে জানা যায়, দ্বীন মোহাম্মাদ ১ লাখ ৮ হাজার মানুষকে ইসলাম ধর্মে ধর্মান্তরিত করেন।

দ্বীন মোহাম্মদ শেখ স্থানীয় আল্লাহওয়ালী জামেয়া মসজিদের সভাপতি। নিজে মুসলিম হওয়ার পর থেকে অন্য মানুষের কাছে ইসলামের দাওয়াত দেয়াকে নিজের কাজ হিসেবে বেছে নেন।দ্বীন মোহাম্মদ শেখ অসহায় ইসলাম গ্রহণকারীদের আবাসনের জন্য প্রায় ৯ একর জায়গারও ব্যবস্থা করেছেন। যারা সেখানে বসবাস করবে।

ইসলাম গ্রহণের পর দ্বীন মোহাম্মদ শেখ বলেন, ‘আমি সব সময় ইসলামকে ভালোবাসি। ইসলাম গ্রহণ করার আগে পবিত্র কোরআন অধ্যয়ন করতে শুরু করি। কোরআন পড়ার পর বুঝতে পারি ৩৬০ দেবতার পূজা করে আসলেও কোনোদিন আমার কোনো উপকারে আসেনি।

ইসলাম গ্রহণ করার পর প্রথমে তিনি গোপনে গোপনে কোরআন অধ্যয়ন করতেন। তার ভয় ছিল যদি কোনো মুসলিম তাকে কোরআনসহ দেখে ফেলে তবে তিনি আক্রমণের শিকার হন কী-না। অতঃপর তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন। আর তা ছিল রমজানের রোজা শুরু হওয়ার আগে। সে সময় তিনি রমজান শুরু হওয়ার একদিন আগে থেকেই রোজা রাখা শুরু করেন।

উল্লেখ্য যে, ছোটবেলা থেকেই তিনি ইসলামের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা করতেন। ইসলামের প্রতি তার ভক্তি-অনুরাগ দেখে তার মা তাকে ১৫ বছর বয়সেই বিয়ে দিয়ে দেন। তার মায়ের বিশ্বাস ছিল, বিয়ে করে ফেললে অন্য ধর্মের প্রতি তার টান কমে আসবে। বিয়ে করার পর মুসলিম হওয়ার আগেই তার ৪ মেয়ে এবং ৮ ছেলে জন্ম নেয়।

বিয়ের পরও ইসলামের প্রতি তার কৌতুহল কমেনি। তিনি ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানার জন্য মোহাম্মদ জাগসি নামে এক মুসলিম শিক্ষক খুঁজে বের করেন। আর তার কাছে নিয়মিত পবিত্র কোরআন এবং হাদিসের বাণী সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে থাকেন।

ভাগ্যক্রমে দ্বীন মোহাম্মদ শেখের চাচাও একই মানসিকতার লোক ছিলেন। তারা দু’জন এই মর্মে একমত হলেন যে, তারা একে অপরকে সব কাজে সহায়তা করবেন। অতঃপর তিনি তার মেয়েদের বিয়ের পর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং ইসলাম প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন।

ইসলাম গ্রহণ করে তিনি ধর্ম প্রচারে একটি মিশনারী তৈরি করেন। তিনি তার পরিবার থেকে ইসলামের দাওয়াত শুরু করেন। পরিবারের শক্তিশালী সমর্থনই ইসলামের প্রচার কাজে তার মানসিক শক্তি বাড়িয়ে দেয়।

পাকিস্তানের মাতলি শহরের চিনি শিল্পের মালিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা জেনারেল সিকান্দার হায়াত দ্বীন মোহাম্মদ শেখকে দ্বীনের প্রচারে আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেন। কিন্তু দ্বীন মোহাম্মদ শেখ সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

তবে তিনি সিকান্দার হায়াতকে নও মুসলিমদের চাকির দেয়ার প্রস্তাব করেন। আর তাতেই রাজি হয়ে যান সিকান্দার হায়াত। সেনা কর্মকর্তা ও তার মেয়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠানে নও মুসলিমদের চাকরির ব্যবস্থা করেন।

দ্বীন মোহাম্মদ শেখের ধর্ম প্রচারের কথা পাকিস্তানের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়লে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ তার কাছে এসেই ইসলাম গ্রহণ করেন। তার আবাসিক বাড়ির মসজিদেই নও মুসলিম শিশু কিশোর নারী ও পুরুষদের জন্য রয়েছে নামাজ ও পবিত্র কোরআন শেখার ব্যবস্থা।

নারী শিক্ষকদের দিয়ে নারীদের কোরআন শেখারও রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা। সেখানে ১৫ দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে কোরআন ও নামাজ শেখানোর ব্যবস্থা রেখেছেন তিনি।

তবে তিনি নিজে মুসলিম হওয়ার পর এত বিশাল সংখ্যক মানুষকে ধর্মে দীক্ষিত করলেও তিনি নিজে কোনো ধর্মীয় গ্রুপ বা দলকে সমর্থন করেন না। বরং তার কাছে সব মুসলমান ভাই ভাই। সবাইকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করাকেই নিজের জীবনের মিশন হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
//