ব্রেকিং:
দেশ-বিদেশ যেখান থেকেই হোক, গুজব ছড়ালে ব্যবস্থা : তথ্যমন্ত্রী কোভিড-১৯ টেস্ট: সরকারের পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছে গণস্বাস্থ্য করোনা সংকট সামলাতে ডিজিটাল ম্যাপ সমৃদ্ধের উদ্যোগ শবেবরাতের মাহাত্ম্যে মানবকল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান চীনের কাছে চিকিৎসক-ভেন্টিলেটর চেয়েছে বাংলাদেশ, সহায়তার আশ্বাস চীন থেকেই চালু হয় হারেমে একাধিক রক্ষিতা রাখার প্রথা! ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা অনলাইনে পরীক্ষা ও ভর্তি বন্ধে ইউজিসি’র আহ্বান করোনা ঠেকাতে স্বেচ্ছায় লকডাউনে তিনগ্রাম স্বাস্থসেবীদের জন্য সিএমপি`র ফ্রি বাস সার্ভিস দেশের জন্য আগামী ৩০ দিন আরো ঝুঁকিপূর্ণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওষুধের দোকান ছাড়া সন্ধ্যার পর সব বন্ধ রাখার নির্দেশ করোনায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে জার্মানরা কমলনগরে সূর্যের হাসি ক্লিনিকটি বন্ধ গত ১০ দিন করোনা সংকট: দুর্নীতির শঙ্কায় বিএনপিকে না বললেন ড. ইউনূস করোনা আতঙ্কে বন্দুক কিনছে মার্কিনিরা ৯ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ভারত এসএসসির ফল চলে যাবে অভিভাবকদের মোবাইলে রাসূলকে (সা.) স্বপ্নে দেখার আমল খাবার নিয়ে অসহায় মানুষের সৌরভ গাঙ্গুলি
  • শুক্রবার   ১০ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৭ ১৪২৬

  • || ১৬ শা'বান ১৪৪১

৪৫

যেভাবে আলু বদলে দিলো বিশ্ব!

আলোকিত লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ৮ মার্চ ২০২০  

সারা বিশ্বের সংস্কৃতিতে প্রধান খাদ্য হচ্ছে আলু। আলু একটি পুষ্টিকর খাবার। বহুকাল আগে থেকেই আলু খাদ্য হিসেবে সবাই গ্রহণ করে আসছেন। তবে খুবই সাধারণ খাবার মনে হলেও আলু বদলে দিয়েছিল বিশ্ব।

১৯৫৭ সালে ফরাসী দার্শনিক ও সাহিত্যিক সমালোচক রোল্যান্ড বার্থেস তার লেখা মাইথোলজিসে আলুর চিপস সম্পর্কে লিখেছিলেন। সেখানে তিনি লিখেছেন- এটি আমেরিকার ফসল থেকে আসা একটি খাদ্য, যা বেশ পরিচিত।

 

ভিবিন্ন রকম আলু

ভিবিন্ন রকম আলু

মাত্র এক শতাব্দী আগে, এমন একটি দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছিল যা কয়েক বছরের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের জনসংখ্যা অর্ধেক করে দিয়েছিল। এই দুর্ভিক্ষের ফলে দেশটিতে কয়েক দশক ধরে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অশান্তির প্রভাব পড়েছিল। অবশেষে এই দুর্ভিক্ষের অবসান ঘটে আলুর মাধ্যমে। আজ যথাক্রমে চীন, ভারত, রাশিয়া এবং ইউক্রেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আলু উত্পাদক হিসেবে পরিচিত।

আলু প্রায় ৮,০০০ বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার অ্যান্ডিসে উৎপাদন করা হয়েছিল। যা ১৫০০ দশকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপে আনা হয়েছিল। সেখান থেকে এটি পশ্চিম এবং উত্তর দিকে, আমেরিকা এবং এর বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছিল। আলু অ্যান্ডিসে উৎপাদিত হলেও সারা বিশ্বে এখন এটি অবিশ্বাস্যভাবে একটি সফল খাদ্য হয়ে উঠেছে।

 

আলু চাষ

আলু চাষ

রেবেকা আর্ল, যিনি ফিডিং দ্য পিপল নামক একটি বইয়ে আলুর গ্রহযাত্রাটি সম্পর্কে লিখেছিলেন। তিনি বলেছেন, বিশ্বের প্রায় সব জায়গায়, মানুষ আলুকে 'প্রধান খাদ্য' হিসাবে বিবেচনা করে। আর্ল এটিকে বিশ্বের সর্বাধিক সফল খাদ্য হিসাবে অভিহিত করেছে, কারণ এটি সব জায়গার উৎপাদন করা সম্ভব। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইডাহোর কৃষকরা এবং জ্ঞানচি-প্রেমী ইতালীয়রাও বলেছেন, আলু যে কোনো পেরুতেই উৎপাদন করা যায়, এবং এটি খুবই পুষ্টিকর একটি খাবার।

ধান, গম এবং ভুট্টার পরে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম ফসল হচ্ছে আলু। এটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কারণ হচ্ছে, চাষের সহজলভ্যতা এবং অপ্রতিরোধ্য পুষ্টিগুণ। তাছাড়া এটি অনেকদিন যাবত সংরক্ষণ করা যায়। দেখা গেছে যারা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যেত, তারা সঙ্গে আলু রাখত। কারণ এটি শক্তি যোগায় ও সহজেই তৈরি করা যায়।

 

আলু চাষে সফল কৃষক

আলু চাষে সফল কৃষক

স্প্যানিশ সেন্ট্রো ইন্টারনাসিয়োনাল দে লা পাপা (সিআইপি) , বা আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র, একটি গবেষণা-উন্নয়ন কেন্দ্র যা আলু সম্পর্কিত সমস্ত বিষয় গবেষণা এবং প্রচার করে। এটি পেরুর রাজধানী লিমাতে স্থাপন করা হয়েছে এবং মহাদেশ জুড়ে হাজার হাজার আলুর নমুনা সেখানে সংগ্রহ রয়েছে। সিআইপি জেনব্যাঙ্কের সিনিয়র কিউরেটর রেনি গেমেজ বলেছিলেন, “অ্যান্ডিসে বৃহত্তম জিনগত বৈচিত্র্য থাকার কারণে সেখানে প্রচুর আলু উৎপাদন সম্ভব হয়। তিনি ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন যে। লিমার প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে টিটিকাকা লেকের নিকটে অ্যান্ডিসে উচ্চমাত্রায় আলু উৎপাদন হয়েছিল। এরপর এই আলুগুলো কর্ডিলেরার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ইনকা সহ আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিশেষ খাদ্য হিসেবে পরিণত হয়।

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যেভাবে আলু এলো

 

আলু সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার নকশা

আলু সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দেয়ার নকশা

১৫৩২ সালে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমেরিকা থেকে আলু বাইরের দেশে আসে। স্প্যানিশ আক্রমণের সময় হানাদাররা টমেটো, অ্যাভোকাডোস এবং কর্ন জাতীয় ফসলের সঙ্গে আলুও নিয়ে এসেছিল। সেখান থেকেই আলু চাষের চেষ্টা চলে। প্রথমে সামঞ্জস্য করা বেশ কঠিন ছিল। তবে ধীরে ধীরে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই জায়গা আলু চাষের উপযোগী করে তোলা হয়।

আন্তর্জাতিক আলু কেন্দ্র অ্যান্ডেসে আলুর উৎপত্তি থেকে বিশ্বব্যাপী কীভাবে আলু ছড়িয়ে দেয়া যায় সেজন্য একটি মানচিত্র তৈরি করেছিল। সেখানে ইউরোপে আলু চাষের চেষ্টায় প্রথম দশকগুলোতে তারা ব্যর্থ হয়েছিল। কারণ সেখানে দেখা যায় ইউরোপে দীর্ঘ গ্রীষ্মের দিনগুলো আলু গাছগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া উষ্ণ মাসগুলোতে আলু বাড়ছেও না। পরে তারা শরত্কালে এটি উৎপাদন করেন এবং সফল হন। সে থেকে এটি শীতকালীন সময়ে উৎপাদনের জন্য প্রযোজ্য বলে গণ্য হয়।

তবে আলু উৎপাদনের জন্য সব থেকে সঠিক স্থান হচ্ছে আয়ারল্যান্ড। কারণ সেখানকার পরিবেশ শীতল এবং আলু ফলনের উপযুক্ত স্থান।

 

আলু অন্য দেশে চাষ করা যাবে কিনা পরীক্ষা পরা হচ্ছে

আলু অন্য দেশে চাষ করা যাবে কিনা পরীক্ষা পরা হচ্ছে

সমাজবিজ্ঞানী জেমস ল্যাং তার নোটস অফ আ পোটো ওয়াচার গ্রন্থে লিখেছিলেন, আয়ারল্যান্ডে আলু একসময় খুব মূল্যবান হয়ে ওঠে। ফলে তারা হেক্টর প্রতি তুলনামূলক বেশি আলু উৎপাদন শুরু করেন। যার ফলে খাজনার পরিমাণ বেড়ে যায়। একসময় আয়ারল্যান্ডে ভাড়াটিয়ারা তাদের খাজনা দিতে জমি ভাড়া নেয়। অনেকেই আবার পারিশ্রমিকের বিনিময়ে অন্যের জমিতে কাজ শুরু করে।

১৮ শতাব্দীর আয়ারল্যান্ডে ভূমিহীন ভাড়াটিয়াদের এক একর জমি এবং একটি গাভী দেয়া হয়েছিল। সে জমিতে আলু চাষ এবং গাভী থেকে দুধ সংগ্রহ করতে বলা হয়। আর এ থেকেই ছয় থেকে আটজনের বিশাল পরিবারকে খাওয়ানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার পাওয়া যায়। এভাবেই পৃথিবীতে খাদ্য  সংকটজনিত জায়গাগুলোতে আলু চাষের সূচনা হয়েছিল।

 

আলু নিয়ে গবেষণা

আলু নিয়ে গবেষণা

ল্যাং লিখেছেন- এভাবেই আলু ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জ থেকে পূর্ব ইউরোপে ছড়িয়ে পড়েছিলে। ১৪৮০-র দশকে রাশিয়ায় এবং ১৬৫০- এর দিকে জার্মানি, প্রুশিয়া, পোল্যান্ডে পৌঁছে যায়। সেখানে আলুর জাতগুলো এবং জিনগুলো স্থানীয় জলবায়ুর অবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে দেয়ার পরেই এর প্রসার লাভ করে।

ইউরোপে খাজনা দেয়ার পরিমাণ দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে। একসময় ইউরোপীয় সমভূমিতে গ্রামবাসীর জন্য এই খাজনা দেয়া কষ্টদায়ক হয়ে পড়ে। গম চাষ করলে এর পরিমাণ সহজেই চোখে পড়ে। কারণ তা মাটির উপর থাকে। যা তাদের খাজনা বৃদ্ধির একটি কারণ ছিল। পড়ে গ্রামবাসীরা আলু চাষে আগ্রহী হয়। কারণ আলু মাটির নিচে থাকে। ফলে এর পরিমাণ কত হবে তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে খাজনার পরিমাণও আর বাড়তে পারে না। এভাবে তারা অতিরিক্ত খাজনার হাত থেকে রেহাই পায়।

 

একটি সংসারে খাদ্যের যোগান দিতো আলু

একটি সংসারে খাদ্যের যোগান দিতো আলু

১৯৯৯ এর দশকে ইতিহাসবিদ উইলিয়াম লিখেছিলেন কীভাবে আলু বিশ্বের ইতিহাস বদলেছে। কারণ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সেই বিশাল সৈন্যরা প্রধান খাদ্য হিসেবে আলুকেই বেছে নিয়েছিল। এছাড়া আর কোনো খাবার সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। আর না পুষ্টিকরও ছিল। এভাবেই আলু সব সৈন্যদের শক্তি যুগিয়েছিল এবং বাঁচিয়ে রেখেছিল।

আলুর পুষ্টিগুণ

আলুতে ভিটামিন এ এবং ডি ব্যতীত প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন এবং পুষ্টি থাকে। যা এটিকে অন্য যে কোনো একক ফসলের তুলনায় অতুলনীয় করে তোলে। তাছাড়া আলুতে ভিটামিন 'এ', 'বি' ও 'সি' আছে। এছাড়াও আলুর খোসাতে আছে ভিটামিন 'এ', পটাশিয়াম, আয়রন, অ্যান্টি-অক্সাইড, ফাইবারসহ প্রচুর পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট।

 

পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ আলু

পুষ্টিগুণে পরিপূর্ণ আলু

আলু একটি আদর্শ খাবার। যা একসময় হাজারো লোকের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। যদিও এখন খুব সহজেই আলু পাওয়া সম্বভ। তবে একসময় এটি চাষ করা বেশ কঠিন ছিল। পুষ্টিগুণের কারণে বর্তমানে  প্রায় প্রতিদিনই খাদ্য তালিকায় আলুর রাখা হয়। কারণ সুস্বাস্থ্যের জন্য আলু খাওয়া খুবই জরুরি।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
ইত্যাদি বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর
//