ব্রেকিং:
লক্ষ্মীপুরে আবারও শ্রেষ্ঠ ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া কমলনগরে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিলেন যুবলীগ নেতা, সরকারি স্কুলে অযত্নে-অবহেলায় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি লক্ষ্মীপুর হলি গার্লস স্কুলে পিঠা উৎসব ভারতেও ছড়াতে পারে চীনের ভাইরাস লিবিয়া সরকারের পতন ইউরোপের জন্য হুমকি: এরদোগান শহীদ আসাদ দিবস আজ ৯ ঘণ্টা পর খুলনা রুটে ট্রেন চলাচল শুরু ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পের সংখ্যা বাড়াতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ই-পাসপোর্টের জন্য প্রধানমন্ত্রীর ফটো নেয়া হয়েছে মুখোষধারীদের স্থান নেই লক্ষ্মীপুর কলেজ ছাত্রলীগে রামগঞ্জে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮ ইউপি সদস্যের অনাস্থা মায়ের কোলে ফিরেই সুখবর পেলেন ক্রিকেটার হাসান হলি গার্লস স্কুলের পিঠা উৎসব অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সাংবাদিকের উপর হামলা কারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে,, সাংবাদিক দম্পত্তির ওপর হামলার ঘটনায় বিচার দাবি করছে বিএমএসএফ কমলনগরের ল্যান্স কর্পোরাল খোকনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীদের কোন ছাড় নয় হিন্দি সিরিয়ালে আসক্তি কাটানোর দারুণ উপায় ইউক্রেনের প্লেন বিধ্বস্তের ঘটনায় নতুন তথ্য দিল রাশিয়া

সোমবার   ২০ জানুয়ারি ২০২০   মাঘ ৭ ১৪২৬   ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১

৮১৯

লক্ষ্মীপুরে অব্যবস্থাপনায় বিদ্যালয়

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০১৯  

অপরিচ্ছন্ন ও অব্যবস্থাপনা জর্জরিত লক্ষ্মীপুর চর রুহিতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অভিযোগ রয়েছে বিদ্যালয়ের নামে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্ধ কাজ না করেই আত্মসাত করেছেন ক্ষোদ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক। তাই নয়, নির্বাচন ছাড়াই গোপনে পচন্দের প্রার্থীকে সদস্য পদে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে কমিটির অন্য সদস্য ও অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

এসব অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে সম্প্রতি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি মুহাম্মদ মাহমুমুদল হক সুজন।

বিদ্যালয়ের সভাপতির নাম মাসুদুল আমিন ও প্রধান শিক্ষকের নাম আবদুল্লাহিল কাদের। চর রুহিতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯১৪ সালে চর রুহিতা ইউনিয়নের রসূলগঞ্জ বাজার এলাকায় স্থাপন করা হয়। এতে দ্বিতলা বিশিষ্ট ২টি ভবনে বিদ্যালয় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একটি বিদ্যালয়ের নিজস্ব ভবন সামনে অপরটি আশ্রয়ন কেন্দ্র কাম বিদ্যালয়।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটি গঠনের পর গত তিন বছরের মধ্যে মাত্র ২/৩টি সভা কমিটির সদস্যদের নিয়ে করা হয়েছিলো। এরপর বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন কাজে সদস্যদের অবগত করা হয়নি। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয় হিসাবও সদস্যদের জানানো হয় না। বিভিন্ন সদস্যদের বাড়ি থেকে স্বাক্ষর এনে রেজুলেশ তৈরি করা হয়ে থাকে। বিভিন্ন উন্নয়ন বরাদ্দের অর্থ কাজ না করে আত্মসাতের অভিযোগ সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের পুরাতন কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি নির্বাচনের বিষয়ে সদস্যদের অবহিত করেন না তারা। পরিচালনা কমিটিতে ৪ জন অভিভাবক সদস্য নিয়োগের ক্ষেত্রে সদস্যদের সাথে সভার মাধ্যমে সমন্বয় করে অভিভাবকদের ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত সদস্য নিয়োগের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। অথচ সভাপতি মাসুদুল আমিন ও প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহিল কাদের গোপনে পছন্দের সদস্য নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া করেন। এসব অনিয়ম বৈধ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তারা নিজেরাই। সদস্যদের বাড়িতে বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী পাঠিয়ে রেজুলেশন বইয়ে বিভিন্ন অজুহাতে স্বাক্ষকর করিয়ে নিচ্ছেন সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক।
অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে আমরা ভোটার। তাছাড়ার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অধিকার রয়েছে। অথচ সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক নিজের পচন্দের ব্যক্তিদের গোপনে সদস্য নিয়োগ করছেন। এটা অন্যায়। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিদ্যালয় কমিটির সদস্য আবুল বাসারসহ তিনজন সদস্য জানান, বিদ্যালয়ে সদস্যদের নিয়ে সভাই হয় না। উন্নয়ন ব্যয় সব সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকই নিয়ন্ত্রণ করে। স্বাক্ষরের প্রয়োজন হলে বাড়িতে রেজুলেশন খাতা পাঠালে স্বাক্ষর করে দেই। তিনদিন পূর্বেও স্বাক্ষর নিয়েছে তারা। তবে সরকারি কি বরাদ্ধ আসে না আসে কিছুই আমার জানা নাই।

এদিকে উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, চর রুহিতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নয়ন কজের জন্য স্লিপ গ্রাউন্ড প্রকল্পের আওতায় ৭০ হাজার টাকা, রুটিং ম্যান্টিনেন্সের আওতায় শ্রেণী কক্ষের দরজা-জানালর কপজ্বা, ব্যাঞ্চসহ বিভিন্ন মেরামত কাজের জন্য ৪০ হাজার টাকা, ওয়াসব্লক এর আওতায় ২টি টয়লেট পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য ২০ হাজার টাকা ও পাক-প্রাথমিকের শ্রেণী কক্ষ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজে ১০ হাজার টাকাসহ মোট ১লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়েছে।

তবে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে এসব বরাদ্দের দৃশ্যমান কোন কাজই চোখে পড়ে নি। বিদ্যালয়ের ভিতরে ও বাহিরে অপরিচ্ছন্ন ও ময়লা আবর্জনা। পাক-প্রাথমিক শ্রেণীর শিক্ষার্থদের জন্য নেই সৌন্দর্য বর্ধন ব্যবস্থা। শ্রেণী কক্ষের দরজা-জানালার জরাজীর্ণ অবস্থা, ভাঙাচুড়া ব্যাঞ্চ ও কাঠের আলমারি। সরকারি উন্নয়নের কোন কাজই করা হয়নি বিদ্যালয়ে। প্রকল্পের টাকা কাজ না করে আত্মসাতের অভিযোগ স্থানীয়দেরও।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করেও চর রুহিতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি মাসুদুল আমিনের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহিল কাদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্লিপগ্রাউন্ড বরাদ্ধ থেকে ডিজিটাল হাজিরা ক্রয়ের জন্য ৩৬ হাজার টাকা সংরক্ষন করা হয়েছে, সতত্যা স্টোরে ১৬ হাজার টাকা, ইলেক্ট্রিক কাজে ৩ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। প্রশ্ন করা হলে উন্নয়ন কাজের বাকী টাকার কোন জবাব দিতে পারেন নি তিনি। এছাড়া পরিচালান কমিটির সদস্য নিয়োগে অনিয়মের বিষয় জানতে চাইলে প্রতিবেদকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা বলেন, চর রুহিতা ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদস্য নির্বাচন ও উন্নয়ন কাজে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সদস্য নিয়োগের প্রক্রিয়াটি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ সত্য প্রমানিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
এই বিভাগের আরো খবর
//