ব্রেকিং:
চাল,লবণ নিয়ে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে স্কুলছাত্রী হত্যার বিচার ও অবৈধ টলি বন্ধের দাবীতে মানববন্ধন লক্ষ্মীপুরে নির্মিত হবে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিবিজড়িত স্মৃতি স্তম্ভ সশস্ত্র বাহিনীকে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আহ্বান নাক ডাকলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে, রইলো সমাধান লক্ষ্মীপুরে গণপিটুনিতে ‘ডাকাত’ নিহত বিয়ে বাড়ীর গেট নিয়ে সংঘর্ষ আহত ৮ লক্ষ্মীপুরের সৈয়দ বাপ্পী চট্টগ্রাম রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সংগঠক রামগঞ্জে সিএনজির ধাক্কাতে শিশুর মৃত্যু অস্ত্র-গুলিসহ ৪ ডাকাত আটক রামগঞ্জে নিন্মমানের সামগ্রী দিয়ে সড়ক নির্মানে বাধা সশস্ত্র বাহিনী দিবসে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন স্পষ্ট করে লিখতে চিকিৎসকদের নির্দেশ শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছেছে পেঁয়াজবাহী কার্গো সরকার টেনিসকে যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবস আজ রামগঞ্জে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান রামগঞ্জের জাহিদ ভূঁইয়া কমলনগরে পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছেন অষ্টম-নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা! অতিরিক্ত দামে লবণ বিক্রি : লক্ষ্মীপুরে দুই ব্যবসায়িকে জরিমানা

শুক্রবার   ২২ নভেম্বর ২০১৯   অগ্রাহায়ণ ৭ ১৪২৬   ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১

৩৪০

লক্ষ্মীপুরে হারিয়ে যাচ্ছে খেজুর রসের ঐতিহ্য

প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৯  

লক্ষ্মীপুরে শীতের সকালে কয়েক বছর আগেও চোখে পড়তো রসের হাড়ি ও খেজুর গাছ কাটার সরঞ্জামসহ গাছির ব্যস্ততার দৃশ্য। সকাল হলেই খেজুরের রস নিয়ে গাছিরা বাড়ি বাড়ি হাকডাক দিতেন। শীতের মৌসুম শুরু হতেই বাড়ি বাড়ি চলতো খেজুরের রস কিংবা রসের পাটালি গুড় দিয়ে মজাদার পিঠাপুলির আয়োজন। গ্রামবাংলার এ দৃশ্য এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। এর প্রধান কারণ খেজুর গাছ নিধন। এতে দিনে দিনে লক্ষ্মীপুরে কমছে খেজুরের গাছ। আগের মত খেজুরের রস ও গুড় পাওয়া যায় না। পেলেও আগের চেয়ে ১০ গুন বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয়।
এদিকে, শীত মৌসুমে লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে খেজুর গাছের রস আহরণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তুলনামূলকভাবে লক্ষ্মীপুর জেলার বিভিন্ন গ্রামগঞ্জে খেজুর গাছ অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। গ্রামের মাঠে আর মেঠোপথের ধারে কিছু গাছ দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। গ্রামবাংলার ঐতিহ্য এই খেজুরগাছ আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। যে হারে খেজুরগাছ নিধন হচ্ছে সে তুলনায় রোপণ করা হয় না।
সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (আরমি), গরীব সোহাগ, মাহফুজুর রহমান মাফুজসহ একাধিক লোক বলেন, কাঁচা রসের পায়েস খাওয়ার কথা এখনো ভুলতে পারি না। আমাদের পরের প্রজন্মরা তো পুলি-পায়েস খেতে পায় না। তাই যে কয়টি খেজুর গাছ আছে তা থেকেই রস, গুড়, পিঠাপুলির আয়োজন করা হয়।
তারা জানান, গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। এক সময় খেজুর রস প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেতো। এখন গাছ যেমন কমে গেছে তেমনি কমে গেছে গাছির সংখ্যাও। ফলে প্রকৃতিগত সুস্বাদু সে রস এখন আর তেমন নেই। 
গাছি আব্দুর রহিম জানান, খেজুরের গাছ কমে যাওয়ায় তাদের চাহিদাও কমে গেছে। আগে এই কাজ করে ভালোভাবেই সংসার চালাতেন। এমনকি আগে যে আয় রোজগার হতো তাতে সঞ্চয়ও থাকতো, যা দিয়ে বছরের আরো কয়েক মাস সংসারের খরচ চলতো। টুমচর গ্রামে যে কয়েকটা খেজুর গাছ আছে তা বুড়ো হয়ে যাওয়ায় রস তেমন পাওয়া যায় না। রস বাজারে বিক্রির মতো আগের সেই অবস্থা নেই।
তিনি জানান, এইতো কয়েক বছর আগে এক হাড়ি খেজুর রস বিক্রি করতাম ২০-৫০ টাকা। এখন খেজুর গাছ না থাকায় সে রসের দাম বেড়ে হয়েছে ৩শ থেকে ৪শ টাকা।
লক্ষ্মীপুর মানব কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, রসের প্রচুর পরিমানে সংকট রয়েছে। আমরা যারা শহরের বসবাস করছি তারাতো এখন আর খেজুর রস খেতেই পারেনা। গত বৃহস্পতিবার গন্ধব্যপুর গ্রাম থেকে ৮শ টাকা করে প্রতি হাড়ি রস কিনে এনেছি। কিন্তু তাতেও অরিজিনাল রস পাওয়া যায়নি। 
জানা গেছে, ইটের ভাটায় ব্যাপকভাবে খেজুর গাছ ব্যবহার করায় এ গাছ কমে গেছে। খেজুর গাছ সস্তা হওয়ায় ইটের ভাটায় এই গাছই বেশি পোড়ানো হয়। এছাড়া অনেক সময় ঘরবাড়ি নির্মাণ করার জন্য খেজুরের গাছ কেটে ফেলা হয়। ফলে দিন দিন খেজুর গাছ কমে যাচ্ছে।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
এই বিভাগের আরো খবর
//