ব্রেকিং:
চীন থেকেই চালু হয় হারেমে একাধিক রক্ষিতা রাখার প্রথা! ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে কলেজছাত্রীকে কীটনাশক খাইয়ে হত্যার চেষ্টা অনলাইনে পরীক্ষা ও ভর্তি বন্ধে ইউজিসি’র আহ্বান করোনা ঠেকাতে স্বেচ্ছায় লকডাউনে তিনগ্রাম স্বাস্থসেবীদের জন্য সিএমপি`র ফ্রি বাস সার্ভিস দেশের জন্য আগামী ৩০ দিন আরো ঝুঁকিপূর্ণ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওষুধের দোকান ছাড়া সন্ধ্যার পর সব বন্ধ রাখার নির্দেশ করোনায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে জার্মানরা কমলনগরে সূর্যের হাসি ক্লিনিকটি বন্ধ গত ১০ দিন করোনা সংকট: দুর্নীতির শঙ্কায় বিএনপিকে না বললেন ড. ইউনূস করোনা আতঙ্কে বন্দুক কিনছে মার্কিনিরা ৯ মিনিটের জন্য অন্ধকারে ভারত এসএসসির ফল চলে যাবে অভিভাবকদের মোবাইলে রাসূলকে (সা.) স্বপ্নে দেখার আমল খাবার নিয়ে অসহায় মানুষের সৌরভ গাঙ্গুলি ভূমিকম্পের মাধ্যমে ধ্বংস হয়েছিল ‘পবিত্র নগরী’! লকডাউন আইসোলেশন কোয়ারেন্টাইন : ইসলাম যা বলে ছু‌টি বাড়লো ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আরও বেশি মানুষ মারা যাবে, বললেন ট্রাম্প দেশে আরো ১৮ জন করোনা রোগী শনাক্ত, মোট ৮৮
  • মঙ্গলবার   ০৭ এপ্রিল ২০২০ ||

  • চৈত্র ২৩ ১৪২৬

  • || ১৩ শা'বান ১৪৪১

৭০১

লক্ষ্মীপুরে ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের ৬ মাসেই বেহাল দশা

আলোকিত লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ৯ মার্চ ২০২০  

লক্ষ্মীপুরে ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২০ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজ শেষ হবার ৬ মাসের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং-সীলকোর্ট উঠে যাওয়াসহ সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে। এ প্রকল্পের শুরু থেকেই স্থানীয়রা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করে আসছে।

২০১৯ সালের মে মাসে জনগুরুত্বপর্ণ এই আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ কাজের মেয়াদ শেষ হয়। নানান অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে জোড়াতালি দিয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করায় মাত্র ৬ মাসের মধ্যে সড়কের দু’পাশে অসংখ্য গর্ত ও একাধিকস্থানে কার্পেটিং-সীলকোর্ট উঠে গিয়ে সড়কটি ক্রমশ: ব্যবহার অনুপযোগি হতে চলেছে, বেড়েছে সড়ক দুর্ঘটনা।

জানা যায়, ঢাকা-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের লক্ষ্মীপুর অংশের ৪০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নে দুটি প্রকল্পে ১শ’ ১৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। তম্মোধ্যে চন্দ্রগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুর শহরের ইটের পুল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য ৬৬ কোটি টাকার কাজ পায় রানা বিল্ডার্স ও আবদুল মোমেন নামে দু’টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানইটের পুল থেকে রায়পুর বর্ডার বাজার পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের জন্য বরাদ্দকৃত ৫৩ কোটি টাকার কাজ পায় রানা বিল্ডার্স, হাসান বিল্ডার্স ও সালেহ আহমদ বাবুল নামের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প দু’টিতে সড়কের দু’পাশে ৩ ফুট করে ৬ ফুট মূল সড়ক প্রশস্ত করাসহ সড়কের দু’পাশে ৬ ফুট ফুটপাথ নির্মাণের কথা থাকলেও রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের পাশাপাশি ফুটপাত নির্মাণেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বড়ধরণের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সড়কের দু’ পাশে ৩ফুট করে ৬ ফুট বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বর্ধিত অংশের গর্তের উপরিভাগে ৩ফুট খনন করে গর্তের তলার নীচে জায়গা রাখা হয়েছে মাত্র এক ফুট। যাতে গর্ত ভরাট করতে বালি, কংকর ও পাথর সাশ্রয় হয়। সিডিউল লংঘন করে যেন তেন ভাবে সড়ক নির্মাণের সময় প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক্স ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমসমূহে বার বার সংবাদ প্রকাশের পরও সড়ক বিভাগ এ বিষয়ে কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। এ সুযোগে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তাদের ইচ্ছামত রাস্তার কাজ সম্পন্ন করেছে। নি¤œমানের কাজ করার কারণে চন্দ্রগঞ্জ বাজার থেকে ইটের পুল পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার রাস্তার বিভিন্নস্থানে কার্পেটিংসহ সিলকোর্ট ফুলে উঠে রাস্তা ফেটে গেছে এবং কোথাও কোথাও রাস্তা দেবে গেছে। মাঝে মাঝে সড়ক বিভাগের লোকজন ফুলে উঠা এবং দেবে যাওয়া অংশ সংস্কার করলেও তা মানসম্মত হচ্ছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। আগের রাস্তার সাথে মিলিয়ে সমানভাবে সিলকোর্ট না করায় যানবাহন চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে উচু নীচু রাস্তায় সড়কে নিত্য দুর্ঘটনা বেড়েই চলছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস অফিসের সামনে, মান্দারী ইউনিয়নের যাদৈয়া, হাজিরপাড়ার বটতলী, চন্দ্রগঞ্জের কলেজ গেইটেসহ বিভিন্নস্থানে সড়কে ফাটল, দেবে যাওয়া ও রাস্তার পাশে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে

লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত বলেন, সড়কের যেসব স্থানে ফাটল ও ফুলা দেখা দিয়েছে সেসব স্থানে ঠিকাদারকে দিয়ে মেরামত করানো হচ্ছে। মেরামতকৃত রাস্তা উঁচু-নিচু হওয়ায় দুর্ঘটনা বাড়ছে- এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের নিজস্ব টেকনিশিয়ান দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুরো রাস্তা যাতে সমান থাকে সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা জানায়, সড়ক বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগে যোগদানের পর সড়ক বিভাগ ক্রমেই দুর্নীতিতে নিমজ্জিত হয়ে যায়। গণমাধ্যমে তার দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশের পর এক পর্যায়ে তিনি লক্ষ্মীপুরবাসীকে মুক্তি দিয়ে বিদায় নেবার পর ২০১৮সালের ১১ অক্টোবর সুব্রত দত্ত নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। কিন্তু তিনি দুর্নীতি অনিয়ম থেকে লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগকে উদ্ধার করতে পারেননি। উপরন্তু লক্ষ্মীপুর সড়ক বিভাগে বর্তমানে কাজের মান আরও নি¤œমূখী হওয়াসহ দুর্নীতি পূবের্’র তুলনায় বহুলাংশে বেড়ে যাওয়ায় তিনি (সুব্রত দত্ত) লক্ষ্মীপুরবাসীকে কবে মুক্তি দিবেন- সে প্রত্যাশায় জনগণ প্রহর গুণছে বলে জানা গেছে

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর বিভাগের পাঠকপ্রিয় খবর
//