ব্রেকিং:
চার বছর পর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাওলানা ত্বহার হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইভার অন; বন্ধ মোবাইল ফোন কে এই মাওলানা ত্বহার ২য় স্ত্রী সাবিকুন নাহার? আওয়ামীলীগের ধর্মীয় উন্নয়নকে ব্যাহত করতে ত্বহা ষড়যন্ত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণা লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে প্রবাসীর মৃত্যু! লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুরে করোনা রোগী ৩৭ জন : নতুন করে শিশুসহ আক্রান্ত ৩ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত করোনার তাণ্ডবে প্রাণ গেল ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের মারা যাওয়া তরুণের করোনা নেগেটিভ, তিন ভাই বোনের পজেটিভ লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিল এডভোকেট নয়ন লক্ষ্মীপুরে ত্রাণের সাথে ঘরও পেল লুজি মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যদের সাথে পুলিশ সুপারের ভিডিও কনফারেন্স লক্ষ্মীপুরে আরো ৩ জনের করোনা পজেটিভ আপনিকি করোনা পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিট ব্যবহারের বিপক্ষে? লক্ষ্মীপুরে ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিল ছাত্রলীগ লক্ষ্মীপুরে ২০০০ পরিবার পেল উপহার সামগ্রী
  • বৃহস্পতিবার   ২১ অক্টোবর ২০২১ ||

  • কার্তিক ৭ ১৪২৮

  • || ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

ধনী হতেই চীনা নাগরিককে হত্যা

আলোকিত লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯  

বিত্তবানদের জীবনযাপনের বিপরীতে নিজেদের দৈন্যদশা দেখে ক্রমেই হতাশ হয়ে পড়েছিল রউফ ও ইনামুল। সিদ্ধান্ত নেয় দ্রুত ধনী হতে হবে। আর তাই বেছে নেয় একাকী থাকা চীনা নাগরিক গাও জিয়ান হুইকে হত্যা করে তার বাসা থেকে অর্থ-সম্পদ লুট করে পালিয়ে যাবে। হয়ে যাবে রাতারাতি ধনী। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তারা খুনও করে গাওকে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গোয়েন্দা পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হয়েছে তাদের।ধরা পড়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা এমনটাই জানিয়েছে পুলিশকে।

গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর বনানীর ২৩ নম্বর সড়কের ৮২ নম্বর ভবনের পেছনে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় গাও এর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গাও এর চীনা বন্ধু অজ্ঞাতদের আসামি করে বনানী থানায় একটি মামলা করেন।

গাও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি ওই ফ্ল্যাটে এক বছর ধরে বসবাস করতেন। তিনি চীন থেকে পাথর ও নিমার্ণ সামগ্রী আমদানি করে পদ্মাসেতু ও পায়রা বন্দরে সরবরাহ করতেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার পরপরই অনুসন্ধানে নামে আইন প্রয়োগকারী একাধিক সংস্থা। অবশেষে গত মঙ্গলবার বনানী থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি ভাঙা মোবাইল, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গামছা, বালতি ও মরদেহ মাটি চাঁপা দেয়ার জন্য গর্ত খোঁড়ার কাজে ব্যবহৃত কাঠের টুকরা এবং ১ লাখ ২১ হাজার পাঁচশ’ টাকা।

বুধবার সকালে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. আবদুল বাতেন। তিনি জানান, গ্রেফতারকৃতরা চীনা নাগরিক যে ভবনে বসবাস করতেন ওই ভবনের নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে কর্মরত ছিল। তারা ভবনের ছাদেই থাকতো। একসঙ্গে চাকরির সুবাদে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। তারা ভবনে বসবাসকারী বিত্তবান মানুষদের জীবনযাত্রা দেখে আর নিজেদের দৈন্যদশা দেশে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। প্রায়ই তারা নিজেদের মধ্যে আলাপ করতো কিভাবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করা যায়। এক পর্যায়ে হত্যাকাণ্ডের বেশ কয়েকদিন আগে রউফ প্রস্তাব দেয় চীনা নাগরিক গাও অনেক বড় ব্যবসায়ী, অনেক টাকা পয়সা নিয়ে আসা-যাওয়া করেন এবং ফ্ল্যাটে একা থাকেন। তাকে শেষ করে দিয়ে যা নিতে পারব তা দিয়ে জীবনে কিছু করা যাবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সুযোগ খুঁজতে থাকে। এদিকে তারা নিশ্চিত হয়, ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরাতে ভিডিও রেকর্ড হয় না। কারণ হার্ডডিস্ক নেই। গত ৬ ডিসেম্বর একবার তারা গাওকে হত্যার চেষ্টা করে। ওইদিন তারা সন্ধ্যায় চীনা নাগরিক গাও এর ফ্ল্যাটে কলিং বেল দেয়। কিন্তু ভেতর থেকে কেউ দরজা না খোলায় ভয়ে তারা আবার ফিরে আসে। এরপর গত ১০ ডিসেম্বর তারা পুনরায় পরিকল্পনা করে আজকে কাজ শেষ করতেই হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ইনামুল তার নিজের ব্যবহৃত গামছা সঙ্গে নেয়। মাগরিবের আযানের পরপরই তারা গাও এর ফ্ল্যাটের সামনে যায় এবং রউফ কলিং বেলে চাপ দেয়। গাও দরজা খুলে ওদের দিকে বিস্ময়ে তাকায়। তিনি বাংলা ও ইংরেজি ভাষা জানতেন না। তবে ইশারায় জানতে চাচ্ছিলেন, কি বিষয়? তখন ইনামুল ওয়াটার ওয়াটার বলে বুঝাতে চায়, তারা পানি পান করবে। মূহুর্তের মধ্যেই তারা দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকে। এরপর ইনামুল চীনা নাগরিক গাও এর গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে এবং রউফ কোমরের দিকে জাপটে ধরে। অল্প সময়ের মধ্যেই গাও এর নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে গাও রউফের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি কামড়ে দেয়। তারা ২/৩ মিনিটের মধ্যেই গাও এর মৃত্যু নিশ্চিত করে। ফ্ল্যাটের ভেতরে ড্রয়িং রুমে টেবিলের উপরে গাও এর ল্যাপটপ খোলাই ছিল এবং পাশে ছিল তার একটি ছোট ব্যাগ। রউফ ব্যাগটি খুলে সেখানে থাকা ৩টি এক হাজার টাকার বান্ডিল, কিছু খুচরা টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয়।  এরপর গাও এর মৃতদেহ ড্রয়িংয়ে নিয়ে গামছা দিয়ে রক্ত মুছে ছাদে চলে যায়। ছাদে গিয়ে গামছা ধুয়ে  ও নিজেরা গোসল করে একসঙ্গে দু’জন বের হয়।

টাকাগুলো গুনে তারা ভাগ করে নেয়। রউফ নেয় এক লাখ ৭৬ হাজার টাকা এবং এনামুলকে দেয় এক লাখ ৭৩ হাজার টাকা। তারা বনানী সুপার মার্কেটের পাশে একটি চায়ের স্টলে বসে চা খায় এবং টাকাগুলো কি করবে তা নিয়ে আলোচনা করে। রউফ সুপার মার্কেটের আশেপাশে থাকা তিনটি বিকাশের দোকান থেকে বিকাশের মাধ্যমে তার গ্রামের বাড়িতে বন্ধু হাসানের কাছে এক লাখ ৫৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। ইনামুল চারটি বিকাশের দোকান থেকে তার নিজের বিকাশে ৫০ হাজার টাকা, এলাকার বড় ভাই করিমের (মিরপুরে বাসাবাড়ির ম্যানেজার) কাছে ৫০ হাজার টাকা, বন্ধু শাহীনের কাছে চল্লিশ হাজার টাকা এবং তার ভাবির কাছে ত্রিশ হাজার টাকাসহ মোট  এক লাখ ৭০ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়।

ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে রউফ নিরাপত্তা কর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। রাত ১১টার দিকে রউফ ভবনের পেছনের দিকে বালি মাটিতে কাঠের টুকরো দিয়ে গর্ত করে। তারপর অপর নিরাপত্তা কর্মীর সাহায্যে লিফটে করে নামিয়ে ভিকটিমের মরদেহ মাটি চাঁপা দেয়। পরের দিন গাও এর গাড়ি চালক, কাজের বুয়া তাকে তার বাসায় না পেয়ে এবং তার ব্যবহৃত স্যান্ডেলে রক্তের দাগ দেখে খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে গাও এর চালক সুলতান ভবনের পেছনে মাটি চাঁপা অবস্থায় পায়ের গোঁড়ালি দেখেন এবং সংবাদ পেয়ে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
//