ব্রেকিং:
চার বছর পর সচিবদের সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মাওলানা ত্বহার হোয়াটসঅ্যাপ-ভাইভার অন; বন্ধ মোবাইল ফোন কে এই মাওলানা ত্বহার ২য় স্ত্রী সাবিকুন নাহার? আওয়ামীলীগের ধর্মীয় উন্নয়নকে ব্যাহত করতে ত্বহা ষড়যন্ত্র স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে প্রতারণা লক্ষ্মীপুরে করোনা উপসর্গে প্রবাসীর মৃত্যু! লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে দিলেন নির্বাহী কর্মকর্তা লক্ষ্মীপুরে করোনা রোগী ৩৭ জন : নতুন করে শিশুসহ আক্রান্ত ৩ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত করোনার তাণ্ডবে প্রাণ গেল ২ লাখ ১১ হাজার মানুষের মারা যাওয়া তরুণের করোনা নেগেটিভ, তিন ভাই বোনের পজেটিভ লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান কেটে বাড়ি পৌঁছে দিল এডভোকেট নয়ন লক্ষ্মীপুরে ত্রাণের সাথে ঘরও পেল লুজি মানসম্মত কোন ধাপ অতিক্রম করেনি গণস্বাস্থ্যের কিট পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব স্কুল-কলেজ বন্ধ বিভিন্ন থানার পুলিশ সদস্যদের সাথে পুলিশ সুপারের ভিডিও কনফারেন্স লক্ষ্মীপুরে আরো ৩ জনের করোনা পজেটিভ আপনিকি করোনা পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যকেন্দ্রের কিট ব্যবহারের বিপক্ষে? লক্ষ্মীপুরে ধান কেটে কৃষকের ঘরে পৌঁছে দিল ছাত্রলীগ লক্ষ্মীপুরে ২০০০ পরিবার পেল উপহার সামগ্রী
  • শনিবার   ২০ আগস্ট ২০২২ ||

  • ভাদ্র ৫ ১৪২৯

  • || ২১ মুহররম ১৪৪৪

অপর্যাপ্ত ঘুম যেসব কঠিন রোগের কারণ

আলোকিত লক্ষ্মীপুর

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল ২০২০  

প্রত্যেক মানুষেরই বয়সভেদে নির্দিষ্ট অনুপাতে ঘুম প্রয়োজন। অনেকেরই ধারণা দিনে আট ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট, তবে তা কিন্তু প্রত্যেকের জন্য নয়। প্রকৃতপক্ষে বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুমের পরিমাণও ভিন্ন। জেনে নিন বয়সভেদে ঠিক কতটুকু ঘুম প্রয়োজন-

০-৩ মাস : ১৪-১৭ ঘণ্টা

৪-১১ মাস : ১২-১৫ ঘণ্টা

১-২ বছর : ১১-১৪ ঘণ্টা

৩-৫ বছর : ১০-১৩ ঘণ্টা

৬-১৩ বছর : ৯-১১ ঘণ্টা

১৪-১৭ বছর : ৮-১০ ঘণ্টা

১৮-৬৪ বছর : ৭-৯ ঘণ্টা

৬৫+ বছর : ৭-৮ ঘণ্টা

ঘুম কম হলে তার প্রভাব পড়ে শরীরে। এজন্য অনেকের মেজাজ সবসময় খিটখিটে থাকে। এমনকি অনিদ্রার ফলে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন ক্ষতি হয়ে থাকে-

চিন্তাশক্তি কমে যায়

 

 

 

প্রয়োজনের চেয়ে কম ঘুম কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। পাশাপাশি সামাজিক সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। আর এ কারণেই মানসিক সমস্যা বাড়তে থাকে। অনিদ্রার ফলে সারাদিন ক্লান্তিভাব, অনিয়ন্ত্রিত আবেগ ও অহেতুক উদ্বেগের জন্য দায়ী।  

মনোযোগের কমায়

কম ঘুম আমাদের স্মৃতিশক্তিতে দুইভাবে প্রভাব ফেলে। প্রথমত, কোনো কাজে মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা হারিয়ে যায় ও শেখার চেষ্টা কমে যায়। দ্বিতীয়ত, ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ব্যস্ত থাকে স্মৃতি একীভূতকরণে। তাই কম ঘুমের ফলে বিচ্ছিন্ন কিছু স্মৃতি মস্তিষ্ক থেকে মুছে যায়। 

ত্বকের লাবণ্যতা কমে

ধারাবাহিকভাবে ঘুমের অভাব হলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে যায়, চেহারায় ফুটে ওঠে বয়সের ছাপ। কারণ ঘুমের সময় শরীর তার মৃত কোষগুলোকে সরিয়ে নতুন কোষের সংস্থাপন করে। সঠিক পরিমাণ ঘুম শরীরের ৬০ শতাংশ ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণে সাহায্য করে। এছাড়াও কম ঘুম শরীরে গ্রোথ হরমোনের নিঃসরণও কমিয়ে দেয় ও শরীর ধীরে ধীরে দূর্বল হয়ে পড়ে।

ওজন বাড়ার কারণ

 

 

 

বেশি ঘুমালে ওজন বাড়ে, তা সবার জানা। তাই অনেকেরই ধারণা হয়ত কম ঘুমালে নিশ্চয়ই ওজন কমে? কিন্তু সঠিক উত্তর ঠিক এর উল্টো। ঘুমের অভাব আমাদের ক্ষুধার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। গবেষণা মতে, যারা দিনে ছয় ঘণ্টারও কম ঘুমায় তাদের থেকে যারা দিনে সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুমায় তাদের ওজন বাড়ার সম্ভাবনা অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি।

দুশ্চিন্তার কারণ

অপর্যাপ্ত ঘুম ডিপ্রেশন বাড়িয়ে দেয়। গবেষণায় উঠে এসেছে, বেশিরভাগ হতাশাগ্রস্থ মানুষ ছয় ঘণ্টার কম ঘুমায়। আর ডিপ্রেশন থেকেই ‘ইনসোমেনিয়া’ বা অনিদ্রার সমস্যা দেখা দেয়। 

প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়

একটানা ঘুমের অভাব দেহে হরমোনের ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায়। অনিয়মিত ঘুম পুরুষ দেহে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ কমায়, যা প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। আর নারী দেহে ঘুমের অপ্রতুলতা শরীরের জৈবিক ছন্দ ব্যাহত করে। হরমোন ভারসাম্যে ব্যাঘাত ঘটায় ও যৌন তাড়না কমায়। 

হৃদরোগের কারণ

স্বল্প ঘুমের অর্থ হচ্ছে শরীর তার পর্যাপ্ত বিশ্রামটুকু পাচ্ছে না। বিশ্রামহীন শরীরকে দীর্ঘক্ষণ কর্মক্ষম রাখতে প্রাকৃতিকভাবেই বিশেষ কিছু রাসায়নিকের নিঃসরণ ঘটে। এতে করে সাময়িকভাবে হৃদকম্পন ও ব্লাড প্রেসার কমে যায়। তবে নিয়মিত এমন ঘটতে থাকলে হৃদকম্পন ও ব্লাড প্রেসার বৃদ্ধির পাশাপাশি হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এছাড়া শরীরে ইনসুলিন প্রতিরোধ বেড়ে যায়, যা ডায়াবেটিস ও হার্টের বিভিন্ন রোগের কারণ।

ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়

অপর্যাপ্ত ঘুম ও ক্যান্সারের মধ্যে সূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। বিশেষ করে স্তন, প্রস্টেট ও কলোরেক্টাল ক্যান্সারের সঙ্গে। মূলত ঘুম স্বল্পতা যে কোনো ক্যান্সারের সম্ভাবনাই বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ও আরোগ্য লাভে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া ঘুমের সময় শরীরে মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ হয় যা কোষক্ষয়ের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়।

দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ে

 

 

 

তন্দ্রাভাবের কারণেই বেশিরভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। গাড়ি চালানোর সময় অনেক ড্রাইভারই এই তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকেন! আর এ কারণেই তারা দুর্ঘটনার সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যর্থ হয়ে থাকেন। 

গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর ২৫ শতাংশ মানুষ কোনো না কোনো ঘুমের ব্যাধিতে আক্রান্ত। কারো ক্ষেত্রে তা বড় সমস্যার কারণ হলেও অন্যরা বিষয়টি সম্পূর্ণ অবহেলা করে। হয়ত আমাদের শরীরে বাসা বাধা বড় রোগটির নেপথ্যেও যে অপর্যাপ্ত ঘুমই দায়ী তা অনেকেরই অজানা।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
//