ব্রেকিং:
মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ ২৬ মার্চ ভারতের সঙ্গে বাইলেটারাল রিলেশন খুব ভালো: কাদের জাতির সর্বোচ্চ গৌরবের দিন সোমবার মুক্তিযুদ্ধে সর্বাত্মক সঙ্গী সোভিয়েত ইউনিয়ন রায়পুরের ডিআইজি মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ ভূঁইয়া কে সংবর্ধনা রামগঞ্জে কৃষকদের প্রশিক্ষণ কর্মশালা ফাইভ স্টার স্কুল এন্ড কলেজের উদ্বোধন কতটুকু সু-সংঘঠিত ১৫ নং লাহারকান্দী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ? লক্ষ্মীপুর সদরে পৌনে ১৮ হাজার মণ ধান কেনা শুরু ১০টি ভ্যাকসিন যেকোনো বয়সের নারী ও পুরুষের জন্য খুবই জরুরি পাকিস্তান যেতে ক্রিকেটারদের জোর করা হবে না: পাপন উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, পাঁচ ট্রেন ও ১৫ বাসে আগুন স্টামফোর্ড ছাত্রী রুম্পার মৃত্যু: মেলেনি ধর্ষণের আলামত জিয়া ছিলেন মোস্তাকের সবচেয়ে বিশ্বস্ত: প্রধানমন্ত্রী রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ হবে আজ কোন উপজেলা কখন হানাদার মুক্ত হয় ? লক্ষ্মীপুরে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক টুটুল মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ মাত্র ৪ ঘণ্টার ২৬ প্রার্থী মনোনয়ন সংগ্রহ মাদকের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর সমাবেশ

রোববার   ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯   পৌষ ১ ১৪২৬   ১৭ রবিউস সানি ১৪৪১

৬৫০৮

যিনি উন্নয়ন করেছেন তাকেই ভোট দিন

প্রকাশিত: ২৯ ডিসেম্বর ২০১৮  

সাধারণ মানুষের মুখে একটি কথার প্রচলণ রয়েছে “আমার ভোট আমি দিব, যাকে খুশি তাকে দিব”!

আপনার মূল্যবান ভোটটি “যাকে খুশি তাকে” দিয়ে দেশকে সেই দুই যুগ আগের জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের রাজ্যে নিয়ে যাবেন, নাকি চোঁখের সামনে প্রত্যক্ষ যোগ্য সরকারটিকেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার সুযোগ করে দিবেন, তার সম্পূর্ণ বিবেচনা আপনার একান্ত বিষয়। তাই কোনো প্রার্থীর ব্যালটে নিজের মূল্যবান ভোটটি দেয়ার আগে ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সালের রাষ্ট্র পরিচালকদের প্রশ্রয়ে সংগঠিত জঙ্গি, সন্ত্রাসবাদ, গুম ও হত্যা, ধর্ষণ, সাম্প্রদায়িকতা, শত্রুরাষ্ট্র পাকিস্তানপন্থি ও যুদ্ধাপরাধীদের নীতির কথাগুলো একটিবার ভেবে দেখা উচিত নয় কী?

রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলবে। এরইমধ্যে ভোটের টানে বাড়িমুখো ছুটছেন সারাদেশের মানুষ। সবার মনেই রয়েছে কে-কাকে ভোট দিবেন। নির্বাচনে সহিংসতা নিয়ন্ত্রনে শনিবার মধ্যরাত থেকেই বন্ধ হচ্ছে সব ধরনের যান চলাচল। তাই শুক্রবারের ছুটিকে কাজে লাগিয়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ নিজের নির্বাচনী এলাকায় যেতে বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় করেছে। লক্ষ্য একটাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করা।

এরইমধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষের রাজধানী ঢাকাও প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে। কেউবা পেশার খাতিরে যেতে পারেননি। কিন্তু যারা যেতে পারছেন নিশ্চই পছন্দের প্রার্থীকেই ভোট দিতে বাড়ি ফিরার এতো তোড়জোড় তাদের। কিন্তু গত দশ বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অক্লান্ত প্রচেষ্টায় “তলা বিহীন ঝুঁড়ি” থেকে সদ্য উন্নয়নশীল দেশ পারা রাখার যোগ্যতা অর্জন করা বাংলাদেশের এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে “যাকে খুশি তাকেই ভোট দেয়াটা কি যৌক্তিক হবে কি?” ভোট তো প্রাপ্য তারাই যারা ক্ষমতার অপব্যবহার না করে বরং দেশের প্রত্যেকটি শাখায় উন্নয়নের ছোঁয়া এনেছেন। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের মানুষের মাথা সসম্মানে উঁচু করে দাঁড়াবার পর্যায়ে নিয়েছে, ভোট তো তারাই প্রাপ্য।

স্বাধীন বাঙালি জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনা। মুখের ভাষায় অস্বীকার করলেও নৈতিক মননে গত দশ বছরে এই হাসিনা সরকারের দিকে তাকালে ধীরে ধীরে দেশটার উন্নতির দিকে এগিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখতে পাবেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে সেই উন্নতিটাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে হলে এবং তাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ শাসন করছে আবার বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেও বিএনপি দেশ শাসন করেছে। কিন্তু ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশটাকে শেখ হাসিনা গত দশ বছরে বিশ্ব দরবারের সামনে বানিয়েছেন উন্নয়নের রোল মডেল।

বিশ্বে যেসব দেশ উন্নতি করেছে তাদের উন্নতির পিছেনে রয়েছে কল্যাণময় শাসকের হাতে দীর্ঘদিন পরিচালনা। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, দক্ষিণ কোরিয়ার জেনারেল পার্ক চুংহি সুদীর্ঘকাল ক্ষমতায় থাকার সময়ে দেশটি উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে উঠে আসে। মাহাথির মুহাম্মদ মালয়েশিয়ার একটানা দীর্ঘ ২৩ বছরের ক্ষমতায় উন্নত রাষ্ট্রের পর্যায়ে তুলে আনেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিধ্বস্ত জাপান একটানা শাসনের কারণে আবার মাথা তুলেছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হিসেবে। ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত মাত্র ৩৮ বছরে চীন এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।

শেখ হাসিনা যখন ২০০৮ সালে ক্ষমতাসীন হন তখন দেশে বিএনপির রেখে যাওয়া ৩৪০০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। গত দশ বছর টানা ক্ষমতায় থাকার কারণে বিদ্যুতের উৎপাদন এখন ২০ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। শিল্প উন্নয়নের জন্য আরও বিদ্যুৎ প্রয়োজন। রংপুর এবং দিনাজপুর জেলায় একশত বর্গকিলোমিটার এলাকায় মাটির নিচে উন্নতমানের কয়লা মজুদ রয়েছে। সে কয়লা আহরণ করে আরও তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বসতি উচ্ছেদ করে এবং জনসাধারণের যেন কোনও অসুবিধা না হয় তাদের পুনর্বাসনের বন্দোবস্ত করে কয়লা আহরণ করে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। সুতরাং সরকারকে ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সময় দিতে হবে যেন পরিকল্পিত কাজগুলো শেষ করতে পারে।

সরকার একশত রফতানি প্রক্রিয়াজাতকরণ জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে এবং তার কাজ এখন পূর্ণগতিতে চলছে। এরই মধ্যে, চীন, জাপান, কোরিয়া, ভারত নিজস্ব ইপিজেড প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছে। কোরিয়াকে চট্টগ্রামে জায়গা প্রদান করা হয়েছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে সময়ের প্রয়োজন।

চীন তৈরি পোশাক শিল্প বন্ধ করে দিচ্ছে। সুতরাং চীনের পরিত্যক্ত পোশাক শিল্পের ব্যবসাটা বাংলাদেশকে সংগ্রহ করার চেষ্টা করতে হবে। পোশাক শিল্পে যে কাপড়ের প্রয়োজন হয় তা বিদেশ থেকে আমদানি করে আনতে হয়। আমাদের দেশে পর্যাপ্ত পরিমাণে বস্ত্রকল স্থাপিত হয়নি। প্রয়োজনীয় বস্ত্রকল স্থাপিত হলে দেশের বেকারত্ব দূর হবে এবং রফতানি কাজেও সময় বেঁচে যাবে। সুতরাং এ বিষয়েও সরকারকে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সে পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। বাংলাদেশে বছরে যে পরিমাণ তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার রফতানি করে তা ভারতও পাকিস্তানের সম্মিলিত রফতানির চেয়ে বেশি।

নোবেল বিজয়ী অর্মত্য সেন বলেছেন বাংলাদেশ বহু ক্ষেত্রে ভারতকে ছাড়িয়ে গেছে। ইকোনোমিস্ট বলেছে বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে এবং মাথাপিছু আয় পাকিস্তানের চেয়ে বেশি।

সবার সময়ে কিছু না কিছু উন্নয়ন হয়। কিন্তু কিছু দরিদ্র জাতির ভাগ্য পরিবর্তন খুবই কঠিন ব্যাপার তার উন্নয়ন করতে যে পরিকল্পনা ও শাসক সম্প্রদায়ের যে কঠোর পরিশ্রম দরকার তার কোনও নমুনা বিএনপির শাসনের সময় ছিল না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সে প্রজ্ঞা যে দূরদর্শিতা, কঠোর পরিশ্রম করার সে মানসিকতা রয়েছে।

আলোকিত লক্ষ্মীপুর
আলোকিত লক্ষ্মীপুর
//